এবার সিআইডির প্রধান কার্যালয় ও পল্লবী থানায় ককটেল বিস্ফোরণ
রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে এবং পল্লবী থানার ফটকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় আট থেকে নয়টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল শনিবার রাত ১০টা থেকে আজ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর মিরপুর, মহাখালী ও ভাটারা এলাকায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থার নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, রাত সাড়ে ৭টার দিকে মালিবাগ মোড়ের কাছে উড়াল সড়ক থেকে সিআইডি কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। সিআইডি কার্যালয়ের মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।
এর আগে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ভাটারা থানা এলাকায় ১০০ ফুট সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে মিরপুর-১২ নম্বরে পল্লবী মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এরপর শনিবার দিবাগত গভীর রাতে মহাখালী এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বনানী থানার মহাখালী এলাকায়ও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটানো হয়েছে।
ঢাকায় ধারাবাহিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার পেছনে নাশকতা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্য দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। গত ৬ ও ৭ নভেম্বর ঢাকা ও আন্তঃজেলা রুটের ছয়টি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।