যেভাবে উদ্ধার হলো বুথ থেকে চুরি হওয়া ১১ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকা
দিনাজপুর সদরের ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের বুথ ফাস্ট ট্র্যাক সিডিএম (টাকা জমা মেশিন) তে চুরি যাওয়া ১১ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধারসহ দুই চোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে ঐ দুই চোরকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার শাহ ইফতেকার আহমেদ চুরি হওয়া টাকা উদ্ধারসহ ও দুই চোরকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।
তিনি বলেন , গত শুক্রবার রাত ১০টায় বুথের সিডিএম মেশিনের কিছু অংশ ভেঙে ১১ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।
.png)
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চুরি হওয়ায় ডাচবাংলা ব্যাংকে কর্মরত ফাস্ট ট্রাকের জুনিয়ার চ্যানেল অফিসার বরকত জামান, দিনাজপুর সদরের গাবুরা বাজারে বিকাশ ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম ।
জেলা পুলিশ সুপার জানান, ডাচবাংলা বুথ থেকে চুরির পরিকল্পনা করে বরকত-রেজাউল। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ডাচবাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাক বুথ থেকে গ্রাহকদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করেন অরনেড (তৃতীয় পক্ষ) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। ব্যাংকের সঙ্গে তাদের চুক্তি রয়েছে। টাকা উত্তোলনের সময় বুথের ব্যবস্থাপক ও অরনেডের কর্মকর্তা পৃথক পৃথক গোপন নম্বর ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করেন। বরকত জামান কয়েক বছর ধরে ফাস্ট ট্র্যাক বুথে কর্মরত আছেন। তবে গত এক বছর ধরে সিডিএম মেশিন থেকে টাকা চুরির পরিকল্পনা করে আসছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ছয়মাস আগে স্থানীয় বিকাশ ব্যবসায়ী রেজাউলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। সপ্তাহ খানেক আগে রেজাউলকে চাকরি পাইয়ে দেন অরনেডে। তিনদিন কাজ করে বেতন কমের অজুহাতে চাকরি ছাড়েন রেজাউল ইসলাম।
এসপি জানান, গত ১১ নভেম্বর রাতে ৮টার সময় ফাস্ট ট্র্যাক বুথে দ্বিতীয় শিফটে দায়িত্বে আসেন প্রহরী রাশেদ ইকবাল। বরকত জামান তাকে নাশতা আনতে পাঠান। এ সুযোগে প্রহরীর টিফিন ক্যারিয়ারে রাখা ভাতের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেন। নাশতা খেয়ে কিছু সময় পর অফিস থেকে বের হয়ে যান বরকত। রাত ১০টায় রেজাউলসহ বুথে প্রবেশ করেন। প্রহরী তখন ভাত খেয়ে গভীর ঘুমে। প্রথমে তারা বুথের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ডিভিআরটি সরিয়ে ফেলেন। পরে উভয়ের কাছে থাকা গোপন নম্বর ব্যবহার করে বুথ থেকে ১১ লাখ ৯১হাজার ৫০০টাকা চুরি করেন। রাত আড়াইটায় প্রহরীকে বুথের বারান্দায় গভীর নিদ্রা অবস্থায় দেখতে পেয়ে বরকতকে ফোন দেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। বরকত তখন ঐ ব্যক্তিকে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করতে বলেন।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, সিসি টিভির ডিভিআরটি শহরের মাতাসাগর এলাকায় পৌরসভার ময়লার গাড্ডায় ফেলে দিয়েছেন। তাদের কথার সূত্র ধরে কোতোয়ালি পুলিশ ময়লার গাড্ডায় একজন টোকাইয়ের সহযোগিতায় স্থানীয় একটি ভাঙরির দোকান থেকে ভাঙা অবস্থায় ডিভিআরটি উদ্ধার করেছে। সে সঙ্গে উভয়ের বাড়িসহ কয়েকটি জায়গা থেকে ১১ লাখ ৯১ হাজার ৫০০টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।