কেমন আছে সেই ‘সিডর বেবি’
১৫ বছর পেরিয়ে গেল প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর। কেউ ভোলেনি সিডরের কথা। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের হৃদয় আজও সেই স্মৃতিতে শিহরিত হয়ে ওঠে। কেউ ভোলেনি সিডরের কথা। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের হৃদয় আজও সেই স্মৃতিতে শিহরিত হয়ে ওঠে। সিডর অনেক সাক্ষী রেখে গেছে উপকূলে। তেমনি একজন ‘সিডর বেবি’ মারিয়া।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে দেশের উপকূলীয় ১১টি জেলায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। সিডরের মত মারিয়াও ১৫ পেরিয়ে ১৬ বছরে পা দিল। ১৫ বছর পর কেমন আছে সেই সিডর বেবি? খোঁজ নিতে সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদ পাড়ের পদ্মা গ্রামে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। ‘সিডর বেবি’ হিসেবে পরিচিত হলেও তার দেওয়া হয় মারিয়া আক্তার। সিডরের দিন রাতে জন্ম নেয়ায় তাকে সবাই সিডর বেবি হিসেবেই চিনেন। এতদিনে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বিয়েও হয়েছে তার। তের বছরের মাথায় এসে থেমে যায় তার স্বপ্ন, অধিকার বঞ্চিত হয় মারিয়া। মাত্র ৫ম শ্রেণিতেই লেখাপড়া ইতি টানতে হয়েছে তাকে।
সিডরের দিনে অনেকের সঙ্গে মারিয়ার বাবা ফারুক মোল্লা, নানা মোস্তফা মিয়া ও নানী ফুলবরু আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে রওয়ানা হয়। অন্তঃসত্ত্বা জাকিয়া বেগম ঝড়ো হাওয়ায় বাবা মোস্তফার হাত থেকে ছুটে গিয়ে হারিয়ে যায়। রাতের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ায় বাবা মোস্তফা অন্যদের আশ্রয় কেন্দ্রে পৌছে দিয়ে প্রায় ঘন্টা পর খুঁজে পায় অন্তঃসত্ত্বা জাকিয়াকে। অনেক কষ্ট করে অন্তঃসত্ত্বা জাকিয়াকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার পরপরই প্রসব বেদনায় কাতরানো শুরু করে। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা অন্য নারীদের সহায়তায় রাত ১১টার দিকে আশ্রয়কেন্দ্রে জাকিয়া জন্ম দেন ফুটফুটে এক শিশুকে। কন্যা শিশু হওয়ায় নাম রাখা হয় ‘সিডর বেরি’।
.png)
সিডর বেবির নানা মোস্তফা মিয়ার জমিতে ত্রাণে পাওয়া ঘর করে মায়ের সঙ্গে থাকে মারিয়া। ১৩ বছর বয়সে বিয়ে হওয়ায় স্বামী নিয়েই থাকেন। তেমন একটা ভালো কাটছে তার। স্বামী নয়ন মিয়াও একজন মৎস্য শ্রমিক। দিনমজুর বাবার দুই সংসার হওয়ায় তেমন খোঁজ খবর নিতে পারে না তার।
ঘূর্ণিঝড় জয়ী ‘সিডর বেরি’ বলেন, আমি যখন বুঝতে শুরু করেছি, তখন থেকে নানা-নানি, বাবা-মায়ের কাছে আমার পৃথিবীতে আসার গল্প শুনেছি। আমি ভাবতেও পারি না আমাকে নিয়ে এতো হৈচৈ হয়েছিল। আমার অনেক স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে বড় হবো। কিন্তু অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে যায়।

মা জাকিয়া বেগম বলেন, সিডরের রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় যখন বাবার হাত থেকে আমি ছুটে যাই, তখন বাচা-মরা নিয়ে আমার কোন ভবনাই ছিল না। একটাই চিন্তা ছিল পেটের বাচ্চাটার কী হবে। অনেক চিৎকার করেছি কিন্তু রাতে প্রচন্ড বাতাসে কেউ শুনতে পারেনি। পরে আমার বাবাই আমাকে খুঁজে পায়।
তিনি আরো বলেন, যখন আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় তখন পেটের ব্যথা আর সহ্য করতে পারছি না। তখন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মাসহ কয়েকজন প্রতিবেশী নারী কাপড় দিয়ে পর্দা দিয়ে রাখেন। এর কিছুক্ষণ পরই বাচ্চা হয়ে যায়। শত কষ্টের মধ্যেও একটি সুখ পাই আমি। ভিটে মাটি কিছুই নেই স্বামীর। বাবার এক টুকুর জমিতে ত্রাণে পাওয়া ঘরে থাকি। আবার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। জামাইসহ এখানেই থাকে মারিয়া।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিক জানান, মারিয়ার পরিবারের দিন কাটছে খুব কষ্টে। আমাদের সাধ্যমতো সাহায্য করছি। সরকারের কাছে মারিয়াদের জন্য একটি আবাসনের দাবি জানান তিনি।