শীতের আগমনে শীতকালীন নানা রকমের সবজির পাশাপাশি আমন ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাগুরা জেলার চাষিরা। এবার জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে সোনা ধানের মতো হাসি। জেলায় চলতি মৌসুমে আমন চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরা মনে করছেন তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে লাভবান হবেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় এ বছর ৬১ হাজার ৯৩৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৫০০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে সদরে ২৩ হাজার ৬৫৬ হেক্টর, শ্রীপুর উপজেলায় ১১ হাজার ৪৭৫ হেক্টর, মহম্মদপুর উপজেলায় ১২ হাজার ২৫৫ হেক্টর এবং শালিখা উপজেলায় ১৪ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে।
.png)
সরেজমিনে দেখা যায়, মাগুরা সদরের আঠারোখাদা ইউনিয়নের বেনিপুর গ্রামের বড়ডাঙি মাঠে হরসিৎ মজুমদার, দেবী মজুমদার, দুলাল সরকার, প্রদীপ বিশ্বাস, সঞ্জিত বালা এবং সঞ্জয় বালাসহ অনেকেই ধান কাটছেন।
কথা হয় কৃষক দুলাল সরকারের সঙ্গে। তিনি জানান, এ মৌসুমে সাত বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। এরই মধ্যে ব্রি-৩৩ ও ব্রি-২৮ জাতের পাঁচ বিঘা জমির ধান কেটেছেন। তিনি বাম্পার ফলনের আশা করেছেন।
আরেক কৃষক হরসিৎ মজুমদার জানান, তিনি ধান কাটা কেবল শুধু করেছেন। তার স্ত্রী দেবী মজুমদারও তার সঙ্গে ধান কাটছেন। ধান কাটা শেষ না হওয়াতে তিনি ফলনের পরিমাণ বলতে পারেননি। তবে বাম্পার ফলনের আশা ব্যক্ত করেন। কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে কৃষক ধান চাষে লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।
মাগুরা নতুন বাজার এলাকার ধান ব্যবসায়ী কালু মিয়া জানান, বর্তমানে নতুন ধান প্রকারভেদে এক হাজার ২০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান জানান, কৃষক ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় আগের চেয়ে চাষ বেড়েছে। এছাড়া অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের তৎপরতায় চলতি মৌসুমেও আমন ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে।