বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার ওসি আব্দুর রহিম। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে থানার আব্দুল লতিফ হাটখোলা এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সোহেল বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাকলিয়া এলাকায় থাকলেও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আব্দুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তার ছয় বছর ও তিন বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে।
.png)
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় সোহেলকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন লিজা ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে সোহেলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। খবর পেয়ে সোহেলের বাবা ও ছোট ভাই হাসপাতালে গেলে তারা তার বুকে, পিঠে ও গলায় আঘাতের দাগ দেখতে পান। এ ঘটনায় পরদিন পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা করেন সোহেলের বাবা আব্দুস সালাম।
মামলার এজাহারে আব্দুস সালাম উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে সোহেলের সঙ্গে লিজার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্ত্রীর চাপে দুই বছর আগে শ্বশুরবাড়ির পাশে আলাদা বাসা নিয়ে থাকতে শুরু করেন সোহেল। সেখানেও তাদের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে ঝগড়া হতো। এর জেরে সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন লিজা।
ওসি আব্দুর রহিম বলেন, সোহেলকে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন মিলে হাসপাতালে নেন। খবর পেয়ে সোহেলের বাবা ও ছোট ভাই সেখানে যান। ততক্ষণে সোহেলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ওই সময় সোহেলের বুকে ও পিঠে লালচে দাগ এবং গলায় নখের আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তার বাবা ও ভাই। তখনই তারা লিজা আক্তার খুন করেছেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ করেন।
ওসি আরো বলেন, অসুস্থতার কারণে সোহেলের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছিলেন লিজা। কিন্তু সোহেল যে সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে লিজা দাবি করেছিলেন, তখন রুমের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে তার দুই সন্তান। এছাড়া বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে ঝগড়াও হতো।
নগর পুলিশের এডিসি (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা বলেন, সোহেলের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে লিজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঝগড়ার একপর্যায়ে সোহেলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জানান। পরে সোহেলের বাবার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।