চাষিরা জানান, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় পীরগঞ্জে এবার ফুলকপির ভালো ফলন হয়েছে। এ উপজেলার উৎপাদিত ফুলকপি চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। শীত মৌসুমে ফুলকপির বেশ চাহিদা রয়েছে বাজারে।
চলতি মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের সবজির পাশাপাশি ফুলকপি চাষ করেন উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের ঝাড়বিশলা গ্রামের নুরুল মিয়া। এবার ফুলকপিতে অধিক লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
.png)
চৈত্রকোল ইউনিয়নের ঝাড়বিশলা গ্রামের আরেক চাষি আমির হামজা বলেন, ফুলকপিতে কোনো লোকসানের ঝুঁকি নেই। শুধু শীতকালেই নয়, এখন ফুলকপি সারা বছর উৎপাদন করা যায়। তবে আমাদের এলাকায় শীতের সময় বেশি আবাদ হয়।
তিনি বলেন, এ বছর প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫ শতাংশ জমিতে চমক জাতের হাইব্রিড ফুলকপি আবাদ করেছি। এতে আমার অনেক লাভ হবে।
উপজেলার চাপাবাড়ী গ্রাম, শাল্টি পশ্চিমপাড়া, বড় আলমপুর ইউনিয়নের কৈগাড়ী গ্রাম, পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে কথা হয় চাষিদের সঙ্গে। তারা বলেন, ভালো লাভ হওয়ায় এখানকার চাষিরা শীতকালীন সবজি ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তবে এ বছর সারের দাম বাড়ায় চাষিদের বাড়তি খরচ হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলকপির ফলন ভালো হয়েছে।
পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের চাষি বুলু মিয়া বলেন, সার ও কীটনাশকের দাম একটু বেশি হওয়ায় কপি চাষে বর্তমানে এক একর জমিতে খরচ হবে প্রায় এক লাখ টাকা। এরপরও বর্তমান যে বাজার রয়েছে, এমন থাকলে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুরের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে প্রতি মণ ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১১৫০ টাকায়। এতে প্রতি পাঁচ কেজি কেনা পড়ছে ২৫-২৮ টাকা। আর খুচরা বাজারে ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এক কেজি ফুলকপি।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নানা প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে রকমারি শীতকালীন সবজির আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ করেছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান সরকার বলেন, এ অঞ্চলের ফুলকপি চাষিরা অত্যন্ত শ্রমজীবী। ফসল উৎপাদনে তাদের মধ্যে অলসতা নেই। যে কারণে তারা ফসলের চাষ করে সুফল পাচ্ছেন। এছাড়া উপজেলা কৃষি বিভাগের লোকজন চাষিদের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।