ঘটনাটি হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের। ৯ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্র আকরাম খান হত্যার ঘটনায় তিন ছাত্রকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বানিয়াচং থানার ওসি অজয় চন্দ্র দেব।
নিহত আকরাম খান বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর গ্রামের সামায়ুন কবির হাফিজিয়া এতিমখানার ছাত্র ও একই গ্রামের দৌলত খানের ছেলে। গ্রেফতাররা হলেন- মক্রমপুর গ্রামের বাসিন্দা মস্তু মিয়ার ছেলে ১৬ বছর বয়সী ফখরুল মিয়া, জুলহাস মিয়ার ছেলে ১৩ বছরের ফয়েজ উদ্দিন ও মহিবুর রহমানের ছেলে ১৫ বছরের জাহেদ মিয়া। তারাও একই মাদরাসার ছাত্র।
.png)
ওসি অজয় চন্দ্র দেব বলেন, ১৬ নভেম্বর মাদরাসার পার্শ্ববর্তী পুকুরে ডোবানো নৌকার নিচ থেকে আকরামের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকেই তদন্তে নামেন পুলিশ সদস্যরা। তদন্তে সেই চাবির খোঁজ মেলে; যা দিয়ে মাদরাসার আবাসিকের অনেক ছাত্রের ট্রাংক খোলা যেতো। এছাড়া কারো কিছু চুরি হলেই আকরামকে সন্দেহ করা হতো।
আর এ সূত্র ধরেই এগোতে থাকে পুলিশ। একপর্যায়ে ফখরুল, ফয়েজ ও জাহেদকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রদের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে ফখরুলের ট্রাংক থেকে প্রথমে ৫০ ও পরে ৬০ টাকা চুরি হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও টাকার সন্ধান পাননি তারা। একপর্যায়ে আকরামের চাবির কথা জানতে পারেন এ তিন ছাত্র। আকরামই টাকা চুরি করেছে বলে সন্দেহ হয় তাদের। এ ক্ষোভ থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬ নভেম্বর সকালে কৌশলে আকরামকে মাদরাসার পেছনে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যান ফখরুল, ফয়েজ ও জাহেদ। এরপর রশি দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন। একপর্যায়ে আকরাম চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরেন। এরপর ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়। এতেও কোনো কাজ না হওয়ায় পুকুরে চুবিয়ে আকরামের মৃত্যু নিশ্চিত করেন তারা। পরে মরদেহ পানিতে ফেলে মাদরাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়েন সবাই। একই দিন বিকেলে আকরামকে খুঁজে পাওয়া না গেলে সন্ধানে নামেন ফখরুল, ফয়েজ ও জাহেদ। পরে তারাই আকরামের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেন।