তাজুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী। দীর্ঘ ১৮ বছর সাধনার পর মোটরসাইকেলটি তৈরি করেছে তিনি। এটি ধোঁয়াবিহীন শতভাগ পরিবেশবান্ধব। খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। কিছুদিন তিনি এই মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে কোর্টে পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল করছেন। তার আবিষ্কৃত মোটরসাইকেলটি দেখতে প্রতিদিন উৎসুক জনতা ভিড় করছেন কোর্ট প্রাঙ্গণে। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এমন মোটরসাইকেল উৎপাদন করতে চান তিনি।
আইনজীবী তাজুল ইসলাম জানান, কুলিয়ারচর থেকে কোর্টে আসতে চার্জের মোটরসাইকেল কিনেছিলাম। আসার সময় মোটরসাইকেলে আসলেও যাওয়ার সময় সেটি টমটম গাড়িতে করে বাড়িতে নিতে হতো। সেই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে মোটরসাইকেল তৈরি করেছি। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। প্রথমে বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল তৈরির যন্ত্রাংশ ক্রয় করি। পরে আদালতে নিজস্ব চেম্বারে কাজের ফাঁকে ফাঁকে ১২ ভোল্টের ৪টি ব্যাটারি, একটি বৈদ্যুতিক মোটরের সঙ্গে ডায়নামো স্থাপন করে মোটরসাইকেলটি তৈরি করি।
.png)
তিনি আরো জানান, মোটরসাইকেলের চাকা চলার সঙ্গে সঙ্গে ডায়নামোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হবে ব্যাটারি। কোনো ধরনের জ্বালানি খরচ ছাড়াই যাওয়া যাবে দেশের যেকোনো প্রান্তে। যার চলার গতি হবে ৭৫ কিলোমিটার। বিনোদনের জন্য ভেতরে সাউন্ড সিস্টেমেরও ব্যবস্থা রয়েছে।
মোটরসাইকেলটি বাজারজাত করতে পারলে জ্বালানি সংকট কমে আসবে। পাশাপাশি দেশের যুবকদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বাণিজ্যিকভাবে মোটরসাইকেল উৎপাদন করতে আমি সরকারের সহযোগিতা চাই। এছাড়া এই পদ্ধতি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে কাজে লাগানো যেতে পারে জানান তিনি।