আদালতের বেঞ্চ সহকারি দেলোয়ার হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সুলতানুল আলম মামলাটি পরিচালনা করেন।
রায়ে সাবেক পৌর মেয়র, বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। মামলা থেকে ২০ জনকে খালাস প্রদান করা হয়।
.png)
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম, তার ভাই বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভি জহির উদ্দিন ও অপর ভাই নাসির উদ্দিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম, অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ও সাধন দাশ। রায় ঘোষণার সময় সাধন দাশ অপর ৫ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আদালত মনে করছেন এটি একটি রাজনৈতিক বিরোধে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড। কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে গোপন বৈঠক করে এ হত্যার পরিকল্পনা নেয়া হয়। যা ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাজা দেয়া হয়। আর ২০ জনকে খালাস দেয়া হয়।
১৯৯০ সালের ৯ এপ্রিল বিকেল পাঁচটার দিকে মহেবশখালীর গোরকঘাটা বাজারে গুলিতে নিহত হন ওই সময়ের জেলা পরিষদ সদস্য ও খাইরুল আমিন সিকদার। তিনি গোরকঘাটা এলাকার হামজা মিয়া সিকদারের ছেলে। ওই দিন নিহত খাইরুল আমিনের বড় ভাই মাহমুদুল করিম বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় মহেশখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুর বক্স, পুটিবিলার বাসিন্দা ও মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম, শামসুল আলম, নাসির উদ্দিন, হামিদুল হকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনার তদন্ত করে এজাহারভুক্ত ২৫ জনসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন ওই বছরের ২২ নভেম্বর। ২০০৩ সালের ২৭ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
তিনি জানান, মামলায় ৩৪ জন সাক্ষ্য প্রদান শেষে যুক্তিতর্ক আদালতে উপস্থাপন হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর। যুক্তিতর্ক শেষে চলতি ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর রায় ঘোষণা তারিখ ধার্য্য করলে আদালতে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তা বিলম্ব হয়ে বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম, অ্যাডভোকেট হামিদুল হক, মৌলভী জহির উদ্দীন ও নাসির উদ্দীন আপন চার ভাই।