‘আমার মেয়ের মত আর কেউ যেন ওদের অপারেশন টেবিলে জীবন না দেয়’
মাইশার বয়স যখন ৯ মাস তখন চুলার আগুনে পুড়ে যায় তার ডান হাতের আঙুল। তখন কুঁকড়ে যায় মাইশার ডান হাতের তিন আঙুল। আঙুলগুলো ঠিক হয়ে যাবে আশা করে, সম্প্রতি ঢাকার এক চিকিৎসকের পরামর্শে আঙুলে অস্ত্রোপচার করানো হয় শিশুটির। আর সেই অস্ত্রোপচারই যেনো কাল হলো। অস্ত্রোপচার করতে গিয়েই মৃত্যু হলো মাইশার।
কিন্তু কিভাবে মারা গেছে তাদের মেয়ে, বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশনের জন্য নেয়া টাকা ফিরিয়ে দেয় মাইশার বাবা-মাকে। লাশ বাড়িতে আনতে ঠিক করে দেয় অ্যাম্বুলেন্সও। বাড়ি ফিরে যখন ছোট্ট মাইশাকে দাফনের জন্য গোসল করানো হবে, তখন গোসল করানো নারীরা দেখতে পান মাইশার নাভির নিচে পেটজুড়ে কেটে সেলাই করা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা গুঞ্জন।
রোববার এ ঘটনায় রাজধানীর মিরপুরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে হাসপাতালটি বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
রোববার রাতে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতাল বন্ধের খবরের প্রতিক্রিয়ায় মাইশার মা বাবা মোজাফফর আলী বলেন, হাসপাতাল বন্ধ করলেই হবে না, আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, সেই চিকিৎসকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমার মেয়েকে তো আর ফিরে পাবো না। আমার মেয়ের জীবন গেছে, আর কোনো বাবা-মায়ের সন্তানদের জীবন যেন এমন কসাইদের হাতে না যায়। আর কোনো বাবা-মাকে যেন এভাবে সন্তান হারা হওয়া না লাগে। আমার নিষ্পাপ মেয়ের মতো আর কোনো মেয়ে যেন ওদের অপারেশন টেবিলে জীবন না দেয়।
তিনি আরো বলেন, আমি গরিব মানুষ। ওই ডাক্তার (ডা. আহসান কবীর) আমার বাসায় সমঝোতার জন্য তার এক বন্ধুকে পাঠাইছে। আমাদের টাকা দিয়ে বিষয়টা আপসের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমরা বলছি, মেয়ের জীবন বিক্রি করতে পারবো না। আমরা টাকা চাই না, বিচার চাই। আমার মেয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধার নাতনি, সে যেন বিচার পায়।
হাসপাতাল বন্ধের খবরে মোটেও স্বান্তনা পাচ্ছেন না মাইশার মা বেলি আক্তার। তিনি বলেন, আমার মেয়ের হাতের আঙুল অপারেশন করতে গিয়ে তারা পেট কাটলো কেন? তারা পেট থেকে কিছু বের করে নিয়েছে কিনা সেটা তদন্ত করা হোক। এভাবে আমার মেয়ের জীবন নেয়ার জন্য আমি ওদের বিচার চাই।’
তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল বন্ধ করে কী হবে! কয়েকদিন পর আবার ওখানে অন্য কোনো মায়ের বুক খালি হবে। হাসপাতাল বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে অপারেশনে জড়িত সবার শাস্তি চাচ্ছি। সরকারের কাছে আমার এটাই মিনতি।
বেলি আক্তার বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার কাছে একজন এসে বিষয়টা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে আপসের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, আপস করলে আমাদের বেশকিছু টাকা দেবেন। ওই ডাক্তারদের নাকি কিছুই হবে না। এর চেয়ে আপস করলেই ভালো হবে। কিন্তু আমি ও আমার স্বামীসহ আমাদের স্বজনরা তাকে না বলে দিয়েছি। আমরা মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাই।