সাবিনাকে হত্যার পর পিলারে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে দেন খালু
গাজীপুরের শ্রীপুরে সাড়ে তিন বছর পর পোশাককর্মী সাবিনা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার মো. মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার ২৪ বছর বয়সী মো. তুলা মিয়া ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার দর্শা গ্রামের বাসিন্দা। নিহত সাবিনা একই জেলার জোকা গ্রামের বাসিন্দা।
.png)
পুলিশ সুপার মাকছুদের রহমান জানান, ২০১৯ সালের ২৫ জুন নতুন বাসা খোঁজার উদ্দেশ্যে বের হন সাবিনা। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এর দুদিন পর শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী বাজারের রহম আলীর পুকুরে সাবিনার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাবিনার খালা ফুলেমা খাতুন সাথী। মামলাটি প্রায় দুই মাস তদন্ত করে শ্রীপুর থানা পুলিশ। তদন্তাধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে পরবর্তী তদন্ত শেষ করার জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ মামলাটি প্রায় দুই বছর তদন্ত করে। পরবর্তীতে হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় মামলাটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স নির্দেশে পিবিআই গাজীপুর জেলার ওপর ন্যস্ত হয়। তদন্ত শেষে ৮ ডিসেম্বর ভোরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তুলা মিয়াকে গ্রেফতার করেন পিবিআইয়ের এসআই জহিরুল ইসলাম।
জিজ্ঞাসাবাদে তুলা মিয়া জানান, খালা-খালু ও নানির সঙ্গে কাপাসিয়ার সূর্য্যনারায়ণপুর গ্রামে কামালের বাড়িতে ভাড়া থেকে গার্মেন্টসে কাজ করতেন সাবিনা। তার চারটি বিয়ে হয়েছে। বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে তার সম্পর্কও ছিল। বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে ঘুরে গভীর রাতে বাসায় ফিরতেন। এ নিয়ে সাবিনার খালু সুজনের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়। ঘটনার দিন রাতে এক বন্ধুর সঙ্গে ঢাকায় বেড়াতে যাওয়ায় দেরিতে বাসায় ফেরেন সাবিনা।
বিষয়টি জানতে পেরে সাবিনাকে গালমন্দ করেন খালুর বাবা। এতে বৃদ্ধ হয়ে সাবিনার খালুর বাবাকে চড় মারেন তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাবিনাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে হাত ভেঙে দেন খালু। এ সময় বাঁচার জন্য তুলা মিয়াদের কক্ষে দৌড়ে যান সাবিনা। তুলা মিয়াসহ আরো কিছু নির্মাণশ্রমিক সাবিনাদের ভাড়া বাসার পাশের কক্ষে থাকতেন।
ঐ সময় খালু সুজনের বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে মামলা করবেন বলে জানান সাবিনা। এ কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে চলে যান তিনি। এরপর রাত প্রায় ১১টার পরও বাসায় না আসায় নাতনির নিখোঁজের বিষয়টি জানান সাবিনার নানি।
সেদিন রাতে বাসায় না ফেরায় তুলা মিয়াসহ অন্যান্যদের নিয়ে সাবিনাকে খুঁজতে বের হন খালু সুজন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী বাজারে সাবিনাকে খুঁজে পান তারা। তবে বাসায় ফিরতে রাজি হননি সাবিনা। এরপর কৌশলে সাবিনাকে রাজাবাড়ী বাজারের পেছনে পুকুর পাড়ের নির্জরে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সুজনসহ অন্যরা। এ ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তুলা মিয়াকে গ্রেফতার করলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়।