শিরিন হত্যা: ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে বিশ্ব আদালতে আল-জাজিরা
বিখ্যাত প্যালেস্টিনিয়ান-আমেরিকান সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আবেদন করেছে আল-জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শিরিন ২৫ বছর ধরে আল-জাজিরার সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করছেন। গত ১১ মে ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের শরণার্থী ক্যাম্পে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায় ইসরায়েলের সেনারা। ঐ সময় সংবাদ সংগ্রহের সময় শিরিনকে গুলি করে হত্যা করেছে সেনারা।
৫১ বছরের শিরিন জেরুজালেমের বাসিন্দা এবং তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি সেখানে বেশ পরিচিত ও সম্মানিত সংবাদিক। তিনি ইসরায়েলের দখল ও ফিলিস্তিনিদের কষ্টের কথা তুলে ধরতেন।
.png)
আবেদনে আল-জাজিরার ছয় মাসের তদন্তের দলিল যুক্ত করা হয়েছৈ। এছাড়া তাকে হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ ও হত্যার নতুন সরঞ্জাম জমা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আল-জাজিরার আবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনিনে আল-জাজিরা ও সংবাদমাধ্যমটির সাংবাদিদের ওপর বড় আকাশের হামলা ঘটনা ঘটে।
আল-জাজিরার আইনজীবী রোডনে ডিক্সন কেসি বলেন, ২০২১ সালে আল-জাজিরার গাজার অফিসে বোমা হামলা চালানোর ঘটনাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি একক কোনো ঘটনা নয়, এ হত্যার মাধ্যমে বিশাল কিছু বহন করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত করা উচিত এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।
ডিক্সন বলেন, শিরিনের ওপর লক্ষ্য করা হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট হত্যার ওপর হইচই হচ্ছে। কিন্তু আমরা যে প্রমাণগুলো জমা দিয়েছি তা আল-জাজিরার বিরুদ্ধে কাজ হচ্ছে। কারণ, আল-জাজিরা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংস্থার কুনজর রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রমাণগুলো দেখাচ্ছে যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আল-জাজিরাকে বন্ধ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আল-জাজিরা আশা করছে, শিগগিরই এ আবেদনের তদন্ত শুরু করে বিচার কার্য শুরু করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
ডিক্সন বলেন, আবেদনটি শিরিনের পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এ আবেদনে সমর্থন করেছে ফিলিস্তিনের সংবাদ চক্র ও আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট।