বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে বদিঘর এলাকার একটি বাসা থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন হাসিনা আক্তার (২৮), তার সাত মাসের ছেলে সিয়াম হোসেন ও তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
.png)
তিনজনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, পুলিশের হাতে আসা তথ্য-প্রমাণাদির ভিত্তেতে জানা যায়, হাসিনা তার দুই সন্তানকে হত্যা করে নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
উপকমিশনার শহিদুল্লাহ বলেন, সাদ্দাম-হাসিনা দম্পতির ১০ বছরের ছেলে কোচিং শেষে বাসায় এসে দরজা চাপানো দেখতে পায়। দরজাটি ধাক্কা দিলে খুলে যায়। এ সময় সে তার মাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে। তার ছোট দুই ভাই-বোন মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। এ সময় তার কান্না শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তারা সাদ্দামকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানান। এরপর সাদ্দাম ছুটে বাসায় আসেন এবং মেয়ে সাদিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রতিবেশীরা ঘটনাটি হাজারীবাগ থানায় জানান। পুলিশ দ্রুত এসে হাসিনা ও তার ছেলে সিয়ামের লাশ উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে দুই শিশুসন্তানকে হত্যার পর মা নিজে আত্মহত্যা করেছেন। পরে তা বিস্তারিত জানাবেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাদ্দাম হোসেন তার তিন বছরের মেয়ে সাদিয়াকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দাম রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবারের গাড়িচালক।
সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যেমকে বলেন, তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সাদ্দাম রায়েরবাজারের ২২৭ বদিঘরে থাকেন। ঘটনার সময় তিনি তার ১০ বছরের ছেলে কোচিংয়ের জন্য বাইরে ছিলেন। তিনি জানান, স্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো ঝামেলা ছিল না।
কারা তার দুই সন্তানকে হত্যা করেছে এই প্রশ্নে সাদ্দাম হোসেন সন্তানদের মৃত্যুর বিষয় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। এ নিয়ে তিনি বিস্তারিত আর কিছু জানাতে চাননি।