ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

এই দিনে মুক্ত হয় রাণীনগর

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৯, ১০ ডিসেম্বর ২০২২
এই দিনে মুক্ত হয় রাণীনগর
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস আজ ১০ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালে আজকের এই দিনে ৩৭ ঘণ্টা সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে হানাদার মুক্ত হয় রাণীনগর উপজেলা।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল রাণীনগরে পাক বাহিনীরা অনুপ্রবেশ করেন। এ সময় তারা নিরাপদ স্থান হিসেবে সদরে আহম্মদ আলীর বাসা, থানা ভবন ও পাইলট স্কুলসহ কয়েক জায়গায় ক্যাম্প স্থাপন করেন। তৎকালীন সময়ে স্থানীয় কিছু রাজাকার, আলবদর ও তাদের দোসরদের নিয়ে আতাইকুলা পালপাড়া, হরিপুর, স্থল-বড়বরিয়া গ্রামে গণহত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাটে মেতে উঠেন। 

তারা আহম্মদ আলীর বাসায় বন্দী শিবির ও নির্যাতন কেন্দ্র বানিয়ে বহু নর-নারীরর উপর পাশবিক নির্যাতন চালান। ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে রাণীনগর পাক হানাদার মুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধারা থানা সদরে থাকা হানাদার ক্যাম্প চারিদিক থেকে ঘেরাও করেন। 

Advertisement

মুক্তিযোদ্ধা ও পাক হানাদার বাহিনীর মধ্যে ৩৭ ঘণ্টা গোলা-গুলির শব্দে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে। ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাক-হানাদার বাহিনী ও তার দোসররা পালাতে শুরু করেন। উভয় পক্ষের গোলাগুলির একপর্যায়ে ৪০ জন রাজাকার-আলবদর অস্ত্রসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পন করে এবং রাণীনগর উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়।

যুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতারুজ্জামান রনজু ও হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে এই সম্মুখ যুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে আমিসহ আব্দুর রাজ্জাক, সোলাইমান আলী, নুরুল ইসলাম, আব্দুল হাই ঠান্ডুসহ ৪০-৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। এছাড়া এই যুদ্ধে বিভিন্ন দিক থেকে এসে আরো কয়েকটি মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রুপ আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেয়।

এই সম্মুখ যুদ্ধে রাণীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লুৎফর রহমান পাক-হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। সেইসঙ্গে দীর্ঘ ৩৭ ঘণ্টা লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ১০ ডিসেম্বর রাণীনগর উপজেলাকে হানাদার মুক্ত করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, স্বাধীনতার সংগ্রামে সাড়া দিয়ে সারাদেশের মতো এই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা মাতৃভূমিকে শত্রু মুক্ত করার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ৯ মাস রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর রাণীনগর উপজেলাবাসী আজকের এদিনে শত্রু মুক্ত হয়ে বিজয় উল্লাস আর জয়ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তুলেছিল রাণীনগর উপজেলার আকাশ-বাতাস।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!