কেন্দুয়ায় শীতের তীব্রতার সঙ্গে বাড়ছে কুয়াশা
হাওরাঞ্চল নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় গত দুইদিন ধরে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে চারপাশ। একই সঙ্গে বইছে মৃদু ঠান্ডা বাতাস। সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্তও দেখা মিলছে না সূর্যের। দিনের বেলাতেও রাস্তা-ঘাটে লাইট জ্বালিয়ে চলছে ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহন।
তবে থেমে নেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শ্রমজীবী, কর্মমুখী ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। তারা কনকনে এই শীত উপেক্ষা করেই ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের বোরো জমি প্রস্তুত করতে তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোরবেলাতেই কাজে বের হচ্ছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ শীত নিবারণের জন্য ছুটছেন কম দামের শীতের পোশাকের মার্কেটে।
এদিকে রাস্তা-ঘাটে সাধারণ লোকজনের চলাচল কম থাকায় যাত্রী সংকটে পড়েছেন রিকশা ও অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চালকরা। শনিবার ভোর থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
.png)
উপজেলার কেন্দুয়া পৌর শহরের চরপূর্বরায় গ্রামের কৃষক সেকুল ইসলাম বলেন, শীতের এই তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেলে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের বোরো আবাদ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।
অটোরিকশা চালক কাজল মিয়া বলেন, দুইদিন ধরে শীত ও কুয়াশা খুব বেশি। কুয়াশার জন্য দিনের বেলাতেও রাস্তা-ঘাট দেখা যায় না। তাই লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। কিন্তু ঠান্ডার কারণে যাত্রী খুব কম।
কেন্দুয়া উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানিয়েছে, উপজেলায় এ বছর ২০ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার এ কে এম শাহজাহান কবীর বলেন, শীতের প্রকোপ উপেক্ষা করে কৃষকদের বোরো জমি প্রস্তুতে কষ্ট হলেও বোরো আবাদে অন্য কোনো সমস্যা নেই। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো আবাদ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার সকাল ১০টায় নেত্রকোণায় সর্বনিম্ন ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।