ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হত্যার পর ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয় শিশু সিনথিয়ার লাশ

সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৫৮, ৯ জানুয়ারি ২০২৩
হত্যার পর ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয় শিশু সিনথিয়ার লাশ
গ্রেফতারকৃত আব্দুল কাদের

৬ বছরের শিশু সিনথিয়া। গত শনিবার চকলেটের লোভ দেখিয়ে তাকে অপহরণ করেন প্রতিবেশী যুবক আব্দুল কাদের। পরে মুঠোফোনে দাবি করেন মুক্তিপণ। একপর্যায়ে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরে রাখলে মারা যায় সিনথিয়া। এরপর ট্রলিব্যাগে নিয়ে বাড়ির পয়োনিষ্কাশন ড্রেনে লুকিয়ে রাখেন সিনথিয়ার লাশ। চারদিন পর সিনথিয়ার লাশ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয় আব্দুল কাদেরকেও।

ঘটনাটি ঘটেছে সাভারের আশুলিয়ায়। এ ঘটনায় রোববার রাতে গ্রেফতার আব্দুল কাদেরকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব-৪। এর আগে শনিবার রাতে কাদেরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকার নুরুল হক সরকারের মালিকানাধীন টিনসেড বাড়ির পয়োনিষ্কাশন ড্রেন থেকে শিশু সিনথিয়ার লাশ উদ্ধার করে র‌্যাব।

ভুক্তভোগী শিশু সিনথিয়ার বাবা জসিনুর রহমানের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলায়। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জসিনুর আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় নুরুল হক সরকারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। গ্রেফতার আব্দুল কাদের সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সায়দাবাদ গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে। আশুলিয়ায় জসিনুরের ভাড়া বাসার পাশেই বসবাস করতেন আব্দুল কাদের।

Advertisement

ভুক্তভোগী পরিবার জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে সিনথিয়াকে খেলতে দেখে তার পরিবার। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই নিখোঁজ হয় সিনথিয়া। পরে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবি করেন দুর্বৃত্তরা। কয়েক ধাপে কিছু টাকা সিনথিয়ার বাবা কয়েকটি মোবাইল নম্বরে পাঠান। এরমধ্যে র‌্যাবকে বিষয়টি জানালে মোবাইলে লেনদেনের সূত্র ধরে আসামির পিছু নেয় র‌্যাব। পরে আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে র‌্যাব শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

জিজ্ঞাসাবাদের আব্দুল কাদের জানান, শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে অপহরণ কারার পর ও চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরে রাখলে শিশুটি মারা যায়। তার ঘরে খাটের নিচে লাশ রেখে দেয়। পরে লুকানোর কাজে ব্যবহৃত ট্রলিব্যাগ ও বাড়ির চাল থেকে শিশুর জামা-জুতা উদ্ধার করেছে র‌্যাব। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) জামাল সিকদার বলেন, ওই শিশুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে ধর্ষণের বিষয়টি সন্দেহ করছি, বাকিটা ময়নাতদন্তে জানা যাবে। এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!