ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

খাবারে বিষ দিয়ে শিশুসন্তানকে হত্যা, মায়ের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:২৯, ৮ জানুয়ারি ২০২৩
খাবারে বিষ দিয়ে শিশুসন্তানকে হত্যা, মায়ের যাবজ্জীবন
দণ্ডপ্রাপ্ত নাছিমা বেগম

কুষ্টিয়ায় খাবারে বিষ দিয়ে সন্তানকে হত্যার দায়ে নাসিমা বেগম নামেে এক সৎ মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রোববার দুপুর ১টার দিকে এ রায় দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত -১ এর বিচারক মো. তাজুল ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। 

দণ্ডপ্রাপ্ত নাছিমা বেগম কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উপজেলার চর ভাবনিপুর গ্রামের উন্তার মৃধার মেয়ে এবং খোকসা উপজেলার আমবাড়ীয়া গ্রামের বাদশা প্রামাণিকের স্ত্রী।

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা যায়,দুই সন্তান রেখে বাদশার প্রথম স্ত্রী মারা যান। পরে কুমারখালীর উপজেলার চর ভাবনিপুর গ্রামের উন্তার মৃধার মেয়ে নাছিমা বেগমকে আবার বিয়ে করেন বাদশা। এরপর থেকেই নানা দুরুদ আলীর বাড়িতে থাকে বাদশার দুই সন্তান পাঁচ বছরের শাহীন এবং সাত বছরের রায়হান। 

২০০৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঈদ উপলক্ষে জামা কেনার জন্য দুই সন্তানকে বাদশার বাড়িতে যান তার শ্বশুর। এতে ক্ষিপ্ত হন সৎমা নাছিমা বেগম। পরদিন দুপুরে শাহিনকে ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ান তিনি। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশু শাহিন। পরে তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় মারা যায় শাহিন। এ ঘটনায় নাছিমা খাতুনের নামে খোকসা থানায় হত্যা মামলা করেন ওই শিশুর বাবা বাদশা। ওই মামলায় গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাহিনকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেন নাছিমা।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা খোকসা থানার উপপুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান নাছিমা খাতুনের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে আজ এ রায় দেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অনুপ কুমার নন্দী জানান, শিশুকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যার দায়ে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আজ এ রায় দেন বিচারক।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!