আটক তানিয়া সদর উপজেলা নাটাই (দক্ষিণ) ইউপির সিন্দুরা এলাকার বাসিন্দা। তানিয়া বোরকা পড়ে ওই শিশুকে হাসপাতাল থেকে কৌশলে চুরি করে বাড়ি নিয়ে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ওই শিশুকে তার মায়ের কোলে তোলে দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ।
জানা যায়, চার বছর আগে সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউপির তেলিনগর গ্রামের ফরিদ মিয়ার সঙ্গে একই উপজেলার মজলিশপুর ইউপির পশ্চিমপাড়ার বাবুল মিয়ার মেয়ে রেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের এরফান মিয়া নামে দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। গত সোমবার প্রসবজনিত ব্যথা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি হন।
.png)
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রেখা আরেকটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বোরকা পড়ে ও মুখ ঢেকে হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি ওয়ার্ডে যান তানিয়া। সে সময় শয্যার পাশে গিয়ে রেখাকে শুয়ে থাকতে দেখেন। তানিয়ার স্বামী ধনী ব্যক্তি। সম্প্রতি অসহায়দের মাঝে এক লাখ টাকা বিতরণ করেছেন বলে রেখা ও তার দাদী জুবেদা খাতুনকে বলেন তানিয়া। এক পর্যায়ে ফল কেনার জন্য জুবেদাকে জোর করে ৫০০ টাকা দেন তানিয়া। পরে শয্যায় রেখার পাশে বসে তিনদিন বয়সী শিশুর ঠান্ডা লেগেছে বলেন। এক পর্যায়ে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে রেখার কাছ থেকে কৌশলে শিশুকে নিয়ে যান তানিয়া।
রেখার বোন তিশা আক্তারকে সঙ্গে করে নিয়ে যায় তানিয়া। দুপুর সোয়া একটার দিকে শিশুকে নিয়ে জেলা শহরের পুরাতন জেল রোডের সন্ধ্যানী সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান তানিয়া। সেখানে ৫০০ টাকা দিয়ে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এস এম আবদুর রহিমকে দেখানোর জন্য একটি টিকেট কাটেন তানিয়া। পরে কৌশলে রেখার বোন তিশাকে শৌচাগারে পাঠিয়ে সেখান থেকে দ্রুত সরে যান তানিয়া। তিশা শৌচাগার থেকে বের হয়ে তানিয়াকে না পেয়ে চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীয়রা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে যেতে বলেন।
তিশা হাসপাতালে গিয়ে বোন রেখাকে বিষয়টি খুলে বলেন। খবর পেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও পুলিশ স্ত্রী ও প্রসূতি ওয়ার্ডে গিয়ে রেখা, রেখার বোন তিশার সঙ্গে কথা বলেন। তিশাকে সঙ্গে নিয়ে সদর থানা ও জেলা ডিবি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে চুরি হওয়ার শিশুটির খোঁজ শুরু করেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সিন্দুরা এলাকার বাড়ি থেকে শিশুকে উদ্ধারসহ তানিয়াকে আটক করে পুলিশ। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শিশুটিকে তার মায়ের কোলে তুলে দেন পুলিশ।
রেখার দাদী জুবেদা বেগম বলেন, বোরকা পড়া ওই নারী এসে আমাদের পাশে ঘুরাফেরা করেন। এক পর্যায়ে ফল কেনার জন্য জোর করে ৫০০ টাকা দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে ৫০০ টাকা ফেরত দেয়া হয়। পরে রেখার ছোট বোন তিশাকে নিয়ে চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে শিশুকে নিয়ে যান ওই নারী। তিশাকে টয়লেটে পাঠিয়ে শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যান ওই নারী।
শিশুকে ফিরে পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে শিশুর মা রেখা বেগম বলেন, বাচ্চারে ফিরে ফেতে বার বার আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। আমার বাচ্চারে আমার কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অনেক ধন্যবাদ।
তিনি জানান, বোরকা পড়া ওই নারী কৌশলে তার কাছ থেকে জেনে নেন শয্যা থেকে রেখা উঠতে পারেন কি না, হাঁটা চলাফেরা করতে পারেন কি না এবং তার স্বামী কখন আসবে। শিশুর ঠান্ডা লেগেছে এবং চিকিৎসক দেখিয়ে ছোটবোন তিশাকে দিয়ে ওই শিশুকে পাঠিয়ে দিবে বলে শিশুকে কোলে করে নিয়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশু চুরি করা ওই নারীর ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। আমার ওই নারীর একটি মোবাইল নম্বর পেয়ে যাই। এর মাধ্যমেই তাকে খোঁজে বের করা হয়।
তিনি জানান, ওই নারী নিজেও অন্তঃসত্ত্বা। কোনো সন্তান না থাকায় তিনি ওই শিশুকে চুরি করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১৫ হাজার টাকার স্বর্ণ বিক্রি করে সেখান থেকে ফল কেনার জন্য তাদের ৫০০ টাকাও দিয়েছিল তানিয়া। আমরা বিষয়টি আরো তদন্ত করছি।