ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহরাব আল হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া তিনদিনের শিশুকে জেলার সদর উপজেলার নাটাই (দক্ষিণ) ইউপির সিন্দুরা এলাকার তানিয়ার কাছ থেকে বিকেল পাঁচটার দিকে তার বাসতঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা তানিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় নিয়ে আসার পর রাতে তানিয়ার অবস্থা খারাপ হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া ঐ শিশুকে জেলার সদর উপজেলার নাটাই (দক্ষিণ) ইউপির সিন্দুরা এলাকা থেকে বিকেল পাঁচটার দিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় একই এলাকার নিয়াজ আহাম্মদ লিটনের স্ত্রী তানিয়াকে আটক করা হয়। তানিয়াই বোরকা পরে ঐ শিশুকে হাসপাতাল থেকে কৌশলে চুরি করে বাড়ি নিয়ে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঐ শিশুকে তার মায়ের কোলে তুলে দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ।
.png)
জানা যায়, চার বছর আগে সদর উপজেলার তালশহর (পূর্ব) ইউপির তেলিনগর গ্রামের ফরিদ মিয়ার সঙ্গে একই উপজেলার মজলিশপুর ইউপির পশ্চিমপাড়ার বাবুল মিয়ার মেয়ে রেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের এরফান মিয়া নামে দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। গত সোমবার প্রসবজনিত ব্যথা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রেখা আরেকটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বোরকা পরে ও মুখ ঢেকে হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি ওয়ার্ডে যান তানিয়া। সে সময় শয্যার পাশে গিয়ে রেখাকে শুয়ে থাকতে দেখেন।
তানিয়ার স্বামী একজন ধনী লোক এবং সম্প্রতি অসহায়দের মাঝে এক লাখ টাকা বিতরণ করেছেন বলে রেখা ও তার দাদি জুবেদা খাতুনকে বলেন তানিয়া। একপর্যায়ে ফল কেনার জন্য জুবেদাকে জোর করে ৫০০ টাকা দেন তানিয়া। পরে শয্যায় রেখার পাশে বসে তিনদিন বয়সী শিশুর ঠান্ডা লেগেছে বলেন। একপর্যায়ে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে রেখার কাছ থেকে কৌশলে শিশুকে নিয়ে যান তানিয়া। রেখার বোন তিশা আক্তারকে সঙ্গে করে নিয়ে যান তানিয়া। দুপুর সোয়া একটার দিকে শিশুকে নিয়ে জেলা শহরের পুরাতন জেল রোডের সন্ধানী সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান তানিয়া। সেখানে ৫০০ টাকা দিয়ে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এস এম আবদুর রহিমকে দেখানোর জন্য একটি টিকেট কাটেন তানিয়া। পরে কৌশলে রেখার বোন তিশাকে শৌচাগারে পাঠিয়ে সেখান থেকে দ্রুত সরে যান তানিয়া। তিশা শৌচাগার থেকে বের হয়ে তানিয়াকে না পেয়ে চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীয়রা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে যেতে বলেন।
তিশা হাসপাতালে গিয়ে বোন রেখাকে বিষয়টি খুলে বলেন। খবর পেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও পুলিশ স্ত্রী ও প্রসূতি ওয়ার্ডে গিয়ে রেখা, রেখার বোন তিশার সঙ্গে কথা বলেন। তিশাকে সঙ্গে নিয়ে সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ সদস্যদের নিয়ে চুরি হওয়ার শিশুটির খোঁজ শুরু করেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সিন্দুরা এলাকার বাড়ি থেকে শিশুকে উদ্ধারসহ তানিয়াকে আটক করে পুলিশ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটিকে তার মায়ের কোলে তুলে দেয় পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশু চুরি করা ঐ মহিলার ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। আমার ঐ মহিলার একটি মোবাইল নম্বর পেয়ে যাই। এর মাধ্যমেই তাকে খুঁজে বের করা হয়। ঐ নারী নিজেও অন্তঃসত্ত্বা। কোনো সন্তান না থাকায় তিনি ওই শিশুকে চুরি করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।