সরেজমিন দেখা গেছে, উখিয়া-কুতুপালং সড়কের পাশে ‘বন্যহাতি চলাচলের পথ’ লেখা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে। অথচ সাইনবোর্ডের ঠিক পেছনের অংশেই ছোট-বড় গাছপালা কেটে নিজেদের আবাসস্থল বানিয়েছে রোহিঙ্গারা। উঁচু উঁচু পাহাড় কেটে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে দুই লাখের বেশি ঘর। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে বন্যহাতির চলাচল ও বিচরণ ক্ষেত্র। দেখে বোঝার উপায় নেই- পাঁচ বছর আগেও এসব পাহাড়ে সবুজ অরণ্য এবং হাতির রাজত্ব ছিল।
কক্সবাজার বন বিভাগের (দক্ষিণ) তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের জন্য উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের ২ হাজার ২০০ একর বনভূমি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ ৯ হাজার ৮২০ কোটি থেকে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার মতো। বিশাল এই বনভূমিতে ৫২৫ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া যেত, যা স্তন্যপায়ী বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু রোহিঙ্গাদের কারণে এসব এখন ধ্বংসের পথে।
.png)
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় ১১ ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, পানি দূষিত হওয়া, দীর্ঘমেয়াদে প্রাকৃতিক সুপেয় পানির অভাব, বর্জ্য বৃদ্ধি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা নির্বিচারে পাহাড়-বনাঞ্চল উজাড় করেছে। ফলে প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখনই রোহিঙ্গাদের থামাতে না পারলে তারা এ অঞ্চলের জন্য আরো বেশি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়, বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর যে ক্ষতি হয়েছে- তা পূরণে আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।