সোমবার যশোরের চৌগাছা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা চত্বরে খেজুর গুড়ের মেলার উদ্বোধন করা হয়।
মেলায় দুই শতাধিক গাছি তাদের উৎপাদিত খেজুরের গুড়, পাটালিসহ খেজুর রস ও গুড় দিয়ে তৈরি নানা ধরনের পিঠা-পায়েসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ভেজালমুক্ত গুড় পাটালির চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। গাছিরাও খুশি বেশি দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি। মেলায় খেজুরের রস বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভাড় ২০০ টাকা ও গুড় বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে। আর পাটালি প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
.png)
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা জানান, যশোর জেলা খেজুর গুড়ের জন্য বিখ্যাত। নানা কারণে খেজুর গাছ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। খেজুরগাছ রক্ষার সঠিক ব্যবস্থা না করলে ভবিষ্যতে জেলার ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে। ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এবং গাছিদের উদ্বুদ্ধ করতে এ খেজুর গুড়ের মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গাছিরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, মেলা ঘিরে দুইদিনের আয়োজনে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও সেরা গাছিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
মেলায় অংশ নেয়া সলুয়া গ্রামের গাছি রশিদ শেখ বলেন, আমি ৩৫ বছর ধরে খেজুরগাছ কাটি (রস সংগ্রহ)। এ বছর ৮০টি খেজুর গাছ কাটছি। গুড় বানাতে যে খরচ হয় সে তুলনায় লাভ হয় না।
পুড়াপাড়া গ্রামের গাছি আব্দুল হামিদ বলেন, ছোট অবস্থায় আমার বাবার সঙ্গে গাছ কেটেছি। ৫০ বছরেরও অধিক সময় হয়ে গেছে। এটা আমার পেশা। তবে আগে যেমন গাছ কাটার প্রতি গাছিদের আগ্রহ ছিল। এখন আর তেমন আগ্রহ নেই।
মেলায় এসে ভেজালমুক্ত গুড় কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা। সাহিদুজ্জামান সবুজ নামে একজন ক্রেতা বলেন, প্রথম কোনো গুড়ের মেলা হচ্ছে। এখানে বিশুদ্ধ গুড়-পাটালি কিনতে পারছি। আমি খেয়ে দেখেছি গুড়-পাটালির মান খুবই ভালো। প্রতিবছর এই মেলার আয়োজন করা দরকার।
আরেকজন ক্রেতা সোলাইমান হোসেন বলেন, ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাই। নির্ভেজাল গুড় কিনতে পেরেছি।
সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবিবর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় গাছিরা বিশুদ্ধ গুড় উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তাদের নিয়েই আজকের এ গুড় মেলা।
স্বরুপদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল কদর বলেন, খেজুর গুড় তৈরি একটি কষ্টসাধ্য কাজ, যা এরই মধ্যে বিলুপ্তির পথে। ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি। গাছিরা ভেজালমুক্ত গুড় উৎপাদন করে ভালো দাম পাচ্ছেন।