ঘুমন্ত রুমমেটকে কুপিয়ে হত্যা, জিজ্ঞাসাবাদে যে ‘কথাটি’ বললেন নাহিদ
ঘটনার শুরু কয়েকদিন আগে। রুমমেট নাহিদকে টাকা চুরির অপবাদ দেন মঞ্জুরুল। এমনকি মঞ্জুরুল আশেপাশের লোকজনকে ডেকে বলে ‘নাহিদ আমার টাকা চুরি করেছে’। পরে স্থানীয়রা মঞ্জুরুলের ব্যাগ তল্লাশি করে দেখে টাকা তার ব্যাগেই ছিল। এতে ক্ষিপ্ত হন নাহিদ। একপর্যায়ে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মঞ্জুরুলকে কুপিয়ে হত্যা করেন নাহিদ। পরে লাশ মাটিচাপা দেন তিনি।
গত শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়। তবে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নাহিদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে লাশের সন্ধান দেন নাহিদ। তার দেখানো স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ২৬ বছরের মঞ্জুরুল ইসলাম রংপুরের বদরগঞ্জ থানার আলা মিয়ার ছেলে। আটককৃত নাহিদের বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায়।
.png)
জানা গেছে, একটি ফার্মে শ্রমিকের কাজ করতেন মঞ্জুরুল ও নাহিদ। জেলার বুড়িচং উপজেলার দুর্গাপুরের নোয়াপাড়া এলাকার ভাড়া থাকতেন তারা। বেশ কিছুদিন আগে মঞ্জুরুলের পকেট থেকে ১৫০০ হারিয়ে যায়। ঐ সময় তিনি নাহিদকে চোর দাবি করেন। স্থানীয়দের কাছেও সেটি বলেন। নাহিদের বাবা-মাকেও কল দিয়ে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হন নাহিদ। একপর্যায়ে গত শুক্রবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মঞ্জুরুলকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। পরে তার লাশ কাবিলা এলাকার একটা কবরস্থানের পাশে মাটিতে পুঁতে রাখেনি।
বুড়িচং থানার ওসি মারুফ রহমান বলেন, ঘটনার শুরু কয়েকদিন আগে। সোমবার বিকেলে আমাদের কাছে জিডি করতে আসেন নিহত মঞ্জুরুলের ভাই। পরে আমরা তার রুমমেটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে আনি। তার কথায় সন্দেহ হলে আমরা তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বিস্তারিত বলে। সে জানায়, চোর বলাতেই তাকে হত্যা করেছে। পরে লাশ মাটিচাপা দিয়েছে। তার তথ্যের ভিত্তিতে আমরা মঞ্জুরুলের লাশ উদ্ধার করি।
তিনি আরো জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ হেফাজতে আছে রুমমেট নাহিদ।