বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় দেন। এ সময় আসামি দেলোয়ার হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের উত্তর চানপুর এলাকার মৃত ইমাম উদ্দিনের ছেলে।
.png)
কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এম.এ আফজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ইটনা উপজেলার লাইমপাশা গ্রামের আহসান মোস্তফার মেয়ে প্রজ্ঞা মোস্তফার। বিয়ের তিন মাস পর বিদেশ চলে যান দেলোয়ার। এরপর সেখানে দুই মাস থেকে খালি হাতে দেশে ফিরে আসেন তিনি। তখন থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ দিতেন প্রজ্ঞাকে। কিন্তু বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দিতে পারবে না বলে অপারগতা জানান প্রজ্ঞা। এ নিয়ে প্রায়ই তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন দেলোয়ার। ২০১৯ সালের ২১ মার্চ সকালে আবারো যৌতুকের দাবিতে চাপ দিলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে প্রজ্ঞাকে জবাই করে পালিয়ে যান দেলোয়ার। হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের ৩ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান ছিল।
ঘটনার দিন রাতেই নিহত প্রজ্ঞা মোস্তফার বাবা মো. আহসান মোস্তফা বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওইদিন রাতেই আসামি দেলোয়ারকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় করিমগঞ্জ থানা পুলিশ।
মামলার তদন্ত শেষে করিমগঞ্জ থানা পুলিশের তৎকালীন এসআই আবদুল্লাহ আল মাসুদ ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী নিহত প্রজ্ঞা মোস্তফার বাবা আহসান মোস্তফা জানান, এ রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।