গতকাল রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরেফিন আহমেদ হ্যাপির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দেন আমিন। নিহত শিরিনা বেগম জেলা শহরের মধ্য মেড্ডার সবুজ আলীর স্ত্রী। গ্রেফতারকৃত আসামি আমিন মিয়া মধ্য মেড্ডার মৃত হিরা মিয়ার ছেলে।
সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহরাব আল হোসাইন।
.png)
তিনি জানান, আমিন মিয়া একই এলাকার সবুজ আলীর বাড়িতে মাসিক ১৪০০ টাকায় একটি টিনের ঘরে ভাড়া থাকেন। বাড়ির মালিক সবুজ আলী পরিবার নিয়ে পাশে আরেকটি বাড়িতে বসবাস করেন। গত ৩ মাস ধরে আমিন মিয়া বাসা ভাড়া দিচ্ছিলেন না। শনিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে সবুজ আলীর স্ত্রী শিরিনা বেগম ভাড়া দেওয়া বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে আমিন মিয়ার কাছে তিন মাসের ভাড়া ৪২০০ টাকা দিতে বলেন শিরিনা বেগম। এ সময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হলে শিরিনা বেগম পায়ের জুতা খুলে আমিনকে মারতে যান। তখন আমিন একটি গামছা দিয়ে শিরিনার গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে শিরিনার মরদেহ লেপে মুড়িয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে চলে যান।
এদিকে, দীর্ঘ সময় শিরিনা বেগম বাসায় ফেরত না গেলে তার আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিকেলের দিকে আমিনের ঘরের দরজা খোলা দেখেন শিরিনার ছেলে। সেই ঘরে তল্লাশি করলে খাটের নিচে লেপে মোড়ানো শিরিনার অচেতন দেহ পান। পরে তাকে উদ্দার করে হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে আমিনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করে এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় আমিন মিয়াসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা করেন শিরিনার পরিবার। পরে রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আমিন মিয়া।