মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় ভাড়া বাসা বসবাস করেন শমসের। ১০ থেকে ১১ বছর ধরে চুল কেনার ব্যবসা করছেন তিনি। প্রথম দিকে বেশ অসুবিধা হলেও এখন আর তেমন ঝামেলা পোহাতে হয় না তার।
সংসারে অভাব অনটন জেঁকে বসলে এক প্রতিবেশীর পরামর্শে স্বল্প পুঁজি নিয়ে চুল কেনাবেচার ব্যতিক্রমধর্মী পেশায় নেমে পড়েন শমসের। চলে আসেন মাগুরাতে। বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ঘুরে মহিলাদের কাছ থেকে চুল কিনে তা বিক্রি করেন মহাজনদের কাছে। মহিলাদেরকে বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে চুল কিনতে প্রথম দিকে বেশ সমস্যায় পড়তে হতো তার। এ চুল কিনে কি হবে, কি করবেন? মহিলাদের এমন অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হতো তাকে। কিন্তু এখন সে সমস্যা কেটে গেছে। চুলের ভালো দাম পাওয়ায় গ্রামের মহিলারা থেকে শুরু করে এখন মাথা আঁচড়ে চুল সংগ্রহ করে রাখেন শহরের মহিলারাও। আর সেই চুল গ্রামে গ্রামে যেয়ে তাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে আসেন শমসের।
.png)
প্লাস্টিকের বিভিন্ন জিনিসের বিনিময়ে চুল সংগ্রহ করে থাকেন তিনি। চুল বেচাকেনা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। শমসেরের বড় ছেলে চতুর্থ ও ছোট ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। এই স্বল্প পুঁজির ব্যবসা করে সংসারের অভাব অনটনের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন শমসের। দেখেছেন সুখের মুখ।
শমসের জানান, ২০১১ সাল থেকে তিনি চুল কেনাবেচার ব্যবসা করে আসছেন। বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে মহিলাদের কাছ থেকে মাথা আঁচড়ে জমিয়ে রাখা চুল কিনে নেন। এভাবে কেজি প্রতি পাঁচ হাজার ৫০০ থেকে ছয় হাজার টাকায় কেনা চুল তিনি বিক্রি করেন সাত হাজার টাকায়। সব খরচ বাদে মাসে তার ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা লাভ থাকে।
তার মতো দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরো অনেক ভ্রাম্যমাণ চুল সংগ্রহকারী এভাবেই চুল কেনাবেচা করে থাকেন। তাদের কাছ থেকে চুল কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, কক্সবাজার, যশোর, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলার মহাজনরা ঢাকায় অবস্থানরত চীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মায়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের চুল ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন দামে এ চুল বিক্রি হয়ে থাকে। মহিলাদের উচ্ছিষ্ট এ চুল দিয়ে দেশের কারখানাগুলোতে মেয়েদের চুলের খোপা, পরচুলা তৈরি ও দামি পুতুলের মাথায় লাগানো হয়ে থাকে।
প্রতিদিন চুল আঁচড়ে চিরুনির সঙ্গে মহিলারা প্রচুর চুল ফেলে দেন। একটু সচেতন হলেই এ চুল সংরক্ষণ করে দেশেই একটি বড় শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তাহলে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের। এমনটাই মনে করেন এ পেশার সঙ্গে জড়িতরা।