ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বোরো আবাদে উৎসবের আমেজ

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া 
প্রকাশিত: ১৫:২১, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
বোরো আবাদে উৎসবের আমেজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো আবাদে উৎসবের আমেজ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান আবাদ পুরোদমে শুরু করেছেন কৃষকরা জমিতে পানি সেচ, হালচাষ, সার প্রয়োগ, বীজ উঠানো ও প্রস্তুতকৃত জমিতে চারা রোপণে দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এখন সর্বত্র চলছে ধান আবাদে উৎসবের আমেজ। এ মৌসুমে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বেশি ধান আবাদ করা হচ্ছে। 

গত আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন ও বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় বেজায় খুশি কৃষকরা। আমনের চাইতে বোরো আবাদে জমিতে ফলন আরো ভালো করতে এখন সর্বাত্তক চেষ্টা করছে কৃষকরা। 

জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো চাষ আবাদে ৫ হাজার ৬৫০ হাজার হেক্টর জমিতে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।  রোপণকৃত জমির মধ্যে উন্নতফলনশীল বীজসহ বিভিন্ন রকমের বীজ ধান রয়েছে। 

সরেজমিন পৌর এলাকায় তারাগন, দেবগ্রাম, নারায়নপুর, খড়মপুর উপজেলার নুরপুর, হীরাপুর, উমেদপুর, বাউতলা, সাতপাড়া, ধাতুরপহেলা, তোলাবাড়ি, কুসুমবাড়ি, নুনাসারসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকরা বোরো ধান আবাদে জমি প্রস্তুত, চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে বোরো চাষ আবাদে শ্রমিক সংকট থাকায় মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো আবাদ শুরু

শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন, কেউবা জমির আইলে কোদাল পাড়া কিংবা জৈব সার বিতরণে কাজ করছেন। কেউ দিচ্ছেন সেচ। আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে বীজতলা থেকে চারা তুলে তা রোপণ করছে জমিতে। 

উপজেলার কাইজবাড়ি গ্রামের কৃষক মো. সহিদ মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হবে। এরইমধ্যে তার ৮ বিঘা জমিতে ধান চারা লাগানো হয়। 

তিনি আরো বলেন, শীত থাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়ার অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে জমিতে কাজ করতে হচ্ছে। আশা করছি, এই সপ্তাহের মধ্যে বাকী জমিগুলোতে চারা রোপণের কাজ শেষ হবে। উচ্চ ফলশীল ব্রি-২৮, ২৯, ৮৮, ৮৪ হাইব্রিড জাতের ধান এ মৌসুমে আবাদ করছেন। এসব ধানের ফলন ও স্থানীয় বাজার মূল্য ভালো থাকায় গত দুই বছর ধরে আবাদ করেছেন।  

উপজেলার উমেদপুর গ্রামের কৃষক মো. আলফু মিয়া জানান, গত আমন মৌসুমে ৭ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনসীল জাতের ধান আবাদ করে তিনি ভালো ফলন পান। প্রতি বিঘা জমিতে তার ২০-২২ মণ ধান ফলন হয়। তাছাড়া ধান বিক্রিতেও ভাল দাম পান। এ মৌসুমে তিনি  ১৩ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করতে বীজতলা তৈরি করে। হাল চাষ দিয়ে জমি প্রস্তুত করে এরইমধ্যে ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা লাগিয়েছেন। দুএক দিনের মধ্যে বাকী জমিতে চারা লাগানো শেষ হবে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক

পৌর শহরের তারাগন এলাকার মো. আলম খাঁ বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে গত কয়েক বছর ধরে তিনি উচ্চ ফলনসীল জাতের ধান আবাদ করছেন। গত আমন মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করে আশানুরূপ ফলন পান। চলতি বোরো মৌসুমে তিনি ১৫ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করছেন। এরই মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে ধান চারা লাগানো শেষ হয়েছে। বাকী জমিগুলো হাল চাষ, সেচপানি দিয়ে ধান আবাদ করতে জমি প্রস্তুত করেছেন। এক সময় জমিতে ভালো ফলন হতো না ফলন ও বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় ধান চাষে তার আগ্রহ বেড়েছে।  

মোগড়া এলাকার মনির হোসেন বলেন, এ মৌসুমে ১৫ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করতে হাল চাষ, সেচপানি দিয়ে প্রস্তুত উচ্চ ফলনশীল ধান চারা লাগানো শুরু করেছেন। গত মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এ মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে তিনি বেশী ধান আবাদ করছেন। 
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার সর্বত্র কৃষকরা জমি প্রস্তুত করে পুরাদমে বোরো ধান আবাদ শুরু করেছেন। মাঠজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ধান আবাদ শেষ হবে। জমিতে ফলন ভালো ফলাতে স্থানীয় কৃষকদেরকে সার্বিকভাবে সহায়তা ও  প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে এবং সেচ ব্যবস্থা ঠিকমতো ভালো থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানায়। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!