ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

তিন গ্রুপের সমন্বয়ে ১০ বছর ধরে গাড়ি চুরি করতেন তারা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৫০, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
তিন গ্রুপের সমন্বয়ে ১০ বছর ধরে গাড়ি চুরি করতেন তারা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানে গাড়িচোর চক্রের ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় চোরাইকৃত ২৯ গাড়ি ও বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়। 

সোমবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা র‌্যাব-১১ এর কমান্ডার মেজর সাকিব মোহাম্মদ সাকিব হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওড়া গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে কাউসার আলী খলিল (৪৫), একই গ্রামের ওহাব কাজীর ছেলে মো. কাইয়ুম (৪২), মো. মুক্তার হোসেন মুসার ছেলে মো. সাজিদ হোসেন (২০), ভাটপাড়া গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল হোসাইন রবিউল (১৯, হাড়ং গ্রামের মো. আলম মিয়ার ছেলে মো. আবু কাউসার (৩৫), বদরপুর গ্রামের মো. হোসেনর ছেলে মো. পিয়াস (৩৩), আড়াইওড়া গ্রামের মৃত দিদার বক্সের ছেলে মো. জহির মিয়া (৪০), মধ্যম মাঝিগাছা গ্রামের মো. হান্নান মিয়ার ছেলে মো. জামশেদ হোসেন (২১), দেবিদ্বার উপজেলার নবীয়াবাদ গ্রামের মৃত সামসুল আলমের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম জাহাঙ্গীর (৪৫), শিমরা গ্রামের আনোয়ার হোসেনর ছেলে হৃদয় হাসান (১৯), বুড়িচং উপজেলার কংশনগর গ্রামের ধনু মিয়ার ছেলে শুক্কুর আলী (২৩), বুড়িচং উপজেলার পারোয়ারা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে রিপন মিয়া ওরফে আব্দুল আলীম (২৭), চান্দিনা উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামের মো. মোহর আলীর ছেলে মো. সাইফুল (৩২), ব্রাহ্মণপাড়া সাহেবাবা গ্রামের মইনুল হোসেনের ছেলে মো. আল আমিন (২৪), শাসনগাছা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মনির মিয়া (৩৯), আড়াইওড়া গ্রামের কাজী মঞ্জিলের ছেলে মজিদ (৩০), বুড়িচংয়ের পারুয়ারা গ্রামের ধনু মিয়ার ছেলে মো. তাজুল ইসলাম (৩২) ও পশ্চিম সিংহ গ্রামের শাহজাহানের ছেলে মো. ওমর ফারুক (২৮)।

Advertisement

মেজর সাকিব জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। মূলত তিনটি গ্রুপের সমন্বয়ে তারা গাড়ি চুরি ও নতুন করে বাজারজাত করেন। প্রথম গ্রুপ যাত্রীবেশে শহরের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে গাড়িগুলোকে টার্গেট করে এবং সুযোগ বুঝে ড্রাইভারকে জিম্মি করে বা ড্রাইভারের অনুপস্থিতে সেগুলো চুরি করেন। এছাড়াও চুরিকৃত গাড়িগুলো যেন সহজে কেউ খুঁজে না পায় সেজন্য তারা এক এলাকা হতে গাড়িগুলো অন্য এলাকায় নিয়ে যান। দ্বিতীয় গ্রুপের কাজ হলো চুরিকৃত গাড়িগুলো বিক্রির জন্য যে এলাকা থেকে গাড়িগুলো চুরি হয়েছে ওই এলাকা ব্যতীত অন্য এলাকার গ্যারেজ মালিকদের নিকট গাড়িগুলো বিক্রি করা এবং তাদের নিকট পৌঁছে দেওয়া।

মূলত চক্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে থাকেন তৃতীয় গ্রুপের সদস্যরা। এই গ্রুপের সদস্যরা দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্যদের নিকট হতে গাড়িগুলো স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে তাদের নিজস্ব গ্যারেজে নিয়ে অতি দ্রুত গাড়িগুলোর ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ খুলে রং পরিবর্তন করে কয়েকটি গাড়ির যন্ত্রাংশ একত্রিত করার মাধ্যমে নতুন গাড়িতে পরিণত করেন এবং নতুন গাড়ি হিসেবে গ্রাহকের নিকট বিক্রি করেন।

নতুন গাড়িটির সঙ্গে চুরি হয়ে যাওয়া গাড়িটির কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না বলে চক্রের সদস্যরা নির্ভয়ে এই কাজ পরিচালনা করে আসছেন। আসামিদের স্বীকারোক্তি মতে আরো জানা যায়, তারা প্রায় ১০ বছর যাবত এই ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মূলত তৃতীয় গ্রুপ দ্বিতীয় গ্রুপের মাধ্যমে চুরিকৃত গাড়িগুলো প্রায় ৩০-৫০ হাজার টাকা মূল্যে প্রথম গ্রুপের নিকট থেকে ক্রয় করে এবং দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্যদের প্রতিটি গাড়ি বাবদ ৫-১০ হাজার টাকার সম্মানী পায়। তৃতীয় গ্রুপ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরাতন গাড়িকে নতুন গাড়িতে পরিণত করে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে। 

গ্রেফতারকালে চক্রের সদস্যদের নিকট হতে ১টি কাভার্ডভ্যান, ২টি মোটরসাইকেল ও ২৬টি ব্যাটারিচালিত গাড়িসহ অসংখ্য যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। এ অভিযানে বেশ কয়েকজন চোর ও গ্যারেজ মালিক পালিয়ে যান। তাদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!