সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনিছুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নাজিমুল পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের শিংরোড জয়ধ্বরভাঙা এলাকার জয়নুল হকের ছেলে।
২০১৯ সালের ১ এপ্রিল পঞ্চগড় সদর থানায় নাজিমুল হককে প্রধান করে মোট তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন রশিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে অপর দুই আসামির অব্যাহতির আবেদন করা হয়।
.png)
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ রাতে নাজিমুল তার স্ত্রী রশিদা আক্তারের সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ দৃশ্য দেখে তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে নাজিরা এবং পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রিয়ামনি এগিয়ে এলে তাদেরকেও আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। এ সময় ৬ মাস বয়সী শিশু রত্না কান্না করতে থাকলে তাকে কোলে তুলে আছড়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।
জানা যায়, আসামি নাজিমুল হকের সঙ্গে মামলার বাদী রশিদুল ইসলামের মেয়ে রশিদার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের একে একে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ছেলে সন্তান না হওয়ায় নাজিমুল তার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার শালিশ-মীমাংসাও হয়েছে। সবশেষে ঘটনার ছয় মাস আগে আবারও মেয়ে সন্তানের জন্ম হলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।