ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গণধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে উল্টো কারাগারে আইনজীবীর স্ত্রী

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৫১, ২১ মার্চ ২০২৩
গণধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে উল্টো কারাগারে আইনজীবীর স্ত্রী
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গণধর্ষণের মিথ্যা মামলা দিয়ে আসামি পক্ষকে ফাঁসানোর অভিযোগে বাদীকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ উপস্থিত হয়ে মৌসুমী জামিন শুনানির প্রার্থনা করেন।

আদালত উভয় পক্ষের শুনানির পর জামিনের দরখাস্ত নামঞ্জুর করে দেয়। পরে নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মেহেদী হাসান তালুকদার জামিন নামঞ্জুর করে মৌসুমীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে। 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Advertisement

কারাগারে যাওয়া ওই নারী জেলার বদলগাছী উপজেলার কোলা গ্রামের মৃত মোতাহার হোসেন মন্ডলের মেয়ে মৌসুমী। তার স্বামী নওগাঁ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সহিদুল ইসলাম।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৬ মে বাদী মৌসুমী নিজেকে বিধবা পরিচয় দিয়ে তার নিজ বাড়িতে গণধর্ষণের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই উপজেলার গয়রা গ্রামের হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। আদালত ঘটনাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেয়। তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুল ইসলাম ঘটনাটির অনুসন্ধান পূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

পরবর্তীতে আদালত নয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের গত ৯ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ দিয়ে সব আসামিকে খালাস প্রদান করে। আসামিরা শারীরিক, আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে বেকসুর খালাস পাওয়া হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে উল্টো ২০ মার্চ (গতকাল সোমবার) ধর্ষিতা দাবি করা নারী মৌসুমীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।

আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মেহেদী হাসান তালুকদার অভিযোগটি আমলে নিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করা উক্ত নারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। 

মঙ্গলবার দুপুরে মৌসুমী বেওয়া আদালতে জামিন শুনানির প্রার্থনা করলে আদালত উভয় পক্ষের শুনানির পর জামিনের দরখাস্ত নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। 

উল্লেখ্য, মৌসুমী অ্যাডভোকেট মো. সহিদুল ইসলামের স্ত্রী। আর স্ত্রীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন তার স্বামী নিজেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!