ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই আয়নীকে হত্যা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:০২, ২৯ মার্চ ২০২৩
ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই আয়নীকে হত্যা
ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই আয়নীকে হত্যা

বিড়াল ছানা ভালোবাসতো শিশু আয়নী। ফলে কেউ বিড়াল ছানা দেবে বললেই ছুটে যেত। আর এ সুযোগ কাজে লাগান সবজি বিক্রেতা রুবেল। কৌশলে আয়নীকে ডেকে এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গলা টিপে হত্যা করেন।

রুবেলকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানায় পিবিআই। এরপর তার দেওয়া তথ্যে বুধবার ভোরে নগরের পাহাড়তলী থানার মুরগি ফার্ম আব্দুর কাজীর দীঘিরপাড়ার একটি ডোবা থেকে আয়নীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই জানায়, শিশু আয়নীর মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রুবেলকে হেফাজতে নেয়া হয়। এরপর রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কোনোভাবে মুখ খোলেননি তিনি। পিবিআই কর্মকর্তাদের টানা জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভোরে মুখ খোলেন রুবেল। আয়নীকে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেন বলে জানান তিনি। এরপর ভোরেই তাকে নিয়ে ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার দিন ২১ মার্চ বিড়াল ছানা দেওয়ার কথা বলে আয়নীকে দেখা করতে বলেন রুবেল। এরপর তাকে একটি ভবনের চতুর্থ তলায় ফুফুর বাসায় নিয়ে যান। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আয়নীকে ধর্ষণ করেন রুবেল। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় গলা টিপে তাকে হত্যা করেন।

সম্প্রতি ঐ এলাকায় একটি বলাৎকারের ঘটনা জানাজানি হয়। এটিও জানাজানি হবে এমন আশঙ্কায় আয়নীকে হত্যা করেন রুবেল। পরে ঐ রাতেই তার লাশ বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেন।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা বলেন, শিশু আয়নীর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এর আগে, মঙ্গলবার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন আয়নীর মা বিবি ফাতেমা। অভিযোগ শুনে মামলাটি সরাসরি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাহাড়তলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

আয়নী নগরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা-মা দুইজনই পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। কয়েকদিন আগে শিশুটি তার মাকে জানায়- স্কুলের এক বান্ধবী বিড়াল ছানা কিনেছে। তাকেও একটি বিড়াল ছানা কিনে দিতে মায়ের কাছে আবদার করে সে। বেতন পেলে কিনে দেবেন বলে আশ্বাস দেন মা। তখন রাস্তার সবজি বিক্রেতা রুবেল তাকে বিড়াল ছানা এনে দেবেন বলে মাকে জানায় শিশুটি। কিন্তু মা তাকে রুবেলের কাছে যেতে নিষেধ করেন।

এ ঘটনার কয়েকদিন পর গত ২১ মার্চ স্কুলে গিয়ে আর ফিরে আসেনি আয়নী। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার দিন এবং তার আগের দিন আয়নীকে রুবেলের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!