লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে তুহিন বেগম (৩৪) নামের এক গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তার স্বামী সেলিম হোসেন। তাদের আড়াই মাসের ছেলে সন্তানকে টাকার বিনিময়ে বিক্রির জের ধরে নিজ স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধূর পরিবার।
শনিবার (৮ এপ্রিল) রাতে রামগঞ্জ পৌরসভার কলচমা ওয়ার্ডের খালেক ঠাকুর বাড়ির সেলিমের নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটেছে।
.png)
রামগঞ্জ পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করেছেন। পরে কলচমা পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় রামগঞ্জ থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।
জানা যায়, রুহুল আমিনের ছেলে সেলিমের সঙ্গে গত ১৫ বছর আগে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আবুল খায়েরের মেয়ে তুহিন আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয়। অভাব অনটনের সংসার হওয়ার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। ৩ ছেলে সন্তানের মা তুহিন আক্তার। সর্বশেষ গত আড়াই মাস আগে তার একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। ওই সন্তান জন্মের পর থেকেই বাবা সেলিম তাকে বিক্রি করে দেওয়ার কথা বললে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দফায় দফায় মারধরের ঘটনা ঘটে।
এরই জের ধরে ৮ এপ্রিল গভীর রাতে শিশু সাফায়াতের কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে বাড়ির লোকজন ছুটে এলে তুহিনকে মৃত দেখতে পান তারা। এ সময় স্বামী সেলিম অটোরিকশা করে নিজ স্ত্রীকে রামগঞ্জ পৌর শহরের আধুনিক হাসপাতালের সামনে রেখে দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যান।
নিহত গৃহবধূর ভাই ওসমান গনি জানান, হতাহতের ঘটনার একদিন আগে ৭ এপ্রিল রাতে আমার বোন তুহিন স্বামী সেলিমের মারধরের বিষয়ে আমাদের পরিবারের সবাইকে জানিয়েছেন। কিন্তু একদিন না যেতেই আমার বোনকে মেরে ফেললো ঘাতক সেলিম।
রামগঞ্জ থানার এসআই ওয়ালি-উল্যা জানান, লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্টের জন্য ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কলচমা পারিবারিক কবরস্থানে নিহতের লাশ দাফন করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।