বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ রায় দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি। আদালত তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফ সদর উপজেলার বশিকপুর ইউপির পশ্চিম শেরপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মৃত আমির হোসেনের ছেলে।
.png)
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. জসিম উদ্দিন।
মামলা সূত্রে জানা যায়,একই উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের হাসান আহম্মেদের মেয়ে লামিয়া আক্তার ঐশির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে আরিফের। ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ঐশির অন্য ছেলেদের সঙ্গে পরকীয়া আছে বলে সন্দেহ করেন আরিফ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। আরিফ অন্য ছেলেদের সঙ্গে ঐশিকে কথা বলতে নিষেধ করলেও শুনতেন না ঐশি। এ নিয়ে ঐশিকে বিভিন্ন সময় মারধর করতেন আরিফ। এতে ঐশি একদিন আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন।
২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে পরকীয়া সন্দেহে ঐশিকে মারধর করেন। একপর্যায়ে গলা টিপে ধরেন আরিফ। এতে অজ্ঞান হলে আরিফ তাকে একটি অটোযোগে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান ঐশি। পরে মরদেহ বাড়িতে এনে নিজ বসতঘরে রেখে পালিয়ে যান। এ সময় আরিফের অন্য স্বজনরাও গা-ঢাকা দেয়। আরিফ তার শাশুড়ি সুফিয়া আক্তারকে ঐশির অসুস্থতার কথা জানালে সুফিয়া এসে তার মেয়ের মরদেহ ঘরে পড়ে থাকতে দেখে। পরে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ওই বছরের ১ অক্টোবর সুফিয়া আক্তার চন্দ্রগঞ্জ থানায় জামাতা আরমান হোসাইন আরিফ ও ঐশির ভাসুর মো. সফিক এবং ননদ জেসমিন আক্তারকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ ২০১৯ সালের ১০ জুলাই আসামি আরিফকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ তার স্ত্রী ঐশিকে পরকীয়ার জেরে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চন্দ্রগঞ্জ থানার সেই সময়ের এসআই মো. মজিবুর রহমান ঐশির স্বামী আরমান হোসাইন আরিফকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেন। মামলার অন্য দুই আসামি আরিফের ভাই সফিক ও বোন জেসমিন আক্তারকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেন আদালত।