জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ভাগাভাগি নিয়ে ঐ গ্রামের মৃত মুনসুর শেখের ছেলে মো. মাহাবুবুর রহমান এবং তার ভাই ইমরান শেখ, মাসুদ শেখ, মিরান শেখ ও ওয়ালিদের ভেতর দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সোমবার সকালে মাহবুব তার বাড়ির গাছ থেকে ডাব পাড়তে গেলে তার ভাই ইমরান শেখ বাধা দেন। এরপর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মাহবুব ও তার ছেলে মো. আব্দুল্লাহর ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান ইমরান, মাসুদ, মিরান ও ওয়ালিদ। এ সময় তাদের মা সেলিনা বেগম মারামারি ঠেকাতে এলে তাকেও ধাক্কা দিয়ে আহত করেন ইমরান। একই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এরপর স্থানীয়রা আহত ইমরান ও তার ছেলে আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
.png)
এ বিষয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. শামীমুর রহমান বলেন, আহত মাহবুবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমরা তাকে এবং তার ছেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেছি।
মো. মাহবুব বলেন, জমিজমা নিয়ে আমাদের ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। আজ বাড়িতে মেহমান আসায় আমি নিজ জমির অংশে গাছের ডাব পাড়তে গেলে হামলা করে আমার অন্য ভাইয়েরা। এর আগে, আমাকে একবার দা দিয়ে কুপিয়েছে। আরো কয়েকবার মারধর করেছে। আমরা সালিশ মীমাংসা করেও কোনো সমাধান পাইনি। শেষপর্যন্ত আজ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমরান শেখের মন্তব্য জানার জন্য ফোন করা হলেও বন্ধ পাওয়া। অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি মিরানকে ফোন করে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, জমি মেপে দেওয়ার পর কেউ মানতে চায়, কেউ মানতে চায় না। আমি এখনো বিস্তারিত জানি না। আমি সব জানলে তো ফয়সালা করে দিতাম।
নড়াইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।