নিহত সাজ্জাদ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের দস্যুনারায়ণপুর গ্রামের মৃত সিরাজউদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত নাঈম এই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। তারা সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা।
নিহতের পরিবার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, সাজুর সঙ্গে তারই বড় ভাই ইসমাইলের দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। নিহতের বাবা সিরাজউদ্দিন মৃত্যুর আগে ৩ শতাংশ জমি তার মা ছালেহা বেগমকে (৭০) রেজিস্ট্রেশন করে দিয়েছিলেন। তার বাবার মৃত্যুর পর বড় ছেলে ইব্রাহিম ও ছোট ছেলের সাজু মায়ের দেখভাল করলেও মেজো ছেলে ইসমাইল কোনো খবর রাখেন না। এ কারণে মা ছালেহা বেগম তার বড় ছেলে ইব্রাহিম ও ছোট ছেলে সাজুকে স্বামীর দেওয়া তিন শতাংশ জমি সমান ভাগে রেজিস্ট্রেশন করে দেন।
.png)
সকালে মায়ের দেওয়া ওই ফসলি জমিতে মাটি ভরাটেকে কেন্দ্র করে বড় ভাই ইসমাইল, ভাবি কোহিনূর ও ভাতিজা নাইমের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নাইম তার চাচা সাজুকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলে মাটিতে পড়েন। এ সময় নিহতের সন্তানদের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে গুরুতর জখম সাজুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, শাশুড়ির দেওয়া জমি নিয়ে ভাসুর ইসমাইল ও তার ছেলে নাইম, তার মা কোহিনূর আমাদের খুন করে ফেলবে বলে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এ বিষয়ে নিহতের মা ছালেহা বেগম বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর আগে তিন শতাংশ জমি রেজিস্ট্রেশন করে দিয়েছিলেন আমাকে। সেই জমি বড় ছেলে ইব্রাহিম ও ছোট ছেলে সাজুকে রেজিস্ট্রেশন করে দিয়েছি, কারণ তারা আমাকে খাবার, কাপড় ও টাকাপয়সা দেয়। কিন্তু মেজো ছেলে কিছুই দেয় না। এ জন্য তাকে জমি দেয়নি। নাতি নাইম আমার ছেলেরে মেরে ফেলেছে।
বিকেলে কাপাসিয়া থানার ওসি এএফএম নাসিম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।