বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) রাতে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাতে মধুটিলা ইকোপার্ক সংলগ্ন কালাপানি এলাকার সীমান্ত সড়কের পাশে নিজ আবাদি বোরো ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে বন্যহাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হন তিনি।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে প্রায় ৪০-৫০টি বন্যহাতির দল বোরো ধানক্ষেতে তাণ্ডব চালিয়ে আসছে। এলাকার কৃষকরা ফসল রক্ষা করতে রাত জেগে ধানক্ষেত পাহারা দিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে বন্যহাতির দলটি পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পুর্ব সমশ্চুড়া গ্রামের কৃষক বিজয় সাংমার আবাদকৃত বোরো ধানক্ষেতে হানা দেয়। এ সময় বিজয় সাংমা ফসল রক্ষা করতে হাতির দলটিকে তাড়া করেন। একপর্যায়ে বন্যহাতির দলটি ক্ষুব্ধ হয়ে বিজয় সাংমার ওপর পাল্টা আক্রমণ করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্বজনরা আহত অবস্থায় বিজয় সাংমাকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
.png)
বিষয়টি নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, পুলিশ নিহত বিজয় সাংমার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিজয় সাংমার মৃত্যুতে কোনো সন্দেহ না থাকায় আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ সৎকার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা ইউএনও খৃষ্টফার হিমেল রিছিল বলেন, নিহত কৃষক বিজয় সাংমার পরিবারকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আবেদন সাপেক্ষে বন বিভাগ থেকে আরো ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপুরণ পাবেন তার পরিবার।