মোবাইলে গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির নারী-পুরুষের দেড় শতাধিক আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রামের প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাটি শৈলকুপা উপজেলার ১২নং নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের সাপখোলা গ্রামে। পুলিশ বলছে ঘটনাটি নিয়ে তাদের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। দ্রুত চক্রটি আইনের আওতায় আসবে।
সাপখোলা গ্রামের এক ভুক্তভোগী জানান, ঈদের দিন রাতে তিনি এবং তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। গরমের জন্য জানালা খোলা ছিল। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তার রুমে দুইবার ফ্লাশ জ্বলে ওঠে। এরপর জানালার ভেতর দিয়ে একটি মোবাইল দিয়ে তাদের ছবি ধারণ করতে থাকে। তিনি বুঝতে পেরে মোবাইলসহ ছবি ধারণকারীর একটি হাত ধরে ফেললে মোবাইল ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যান চক্রটির সদস্যরা।
.png)
পরে মোবাইলটিতে দেখতে পান তাদের গ্রামের নারী-পুরুষদের কয়েকশত আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি। তিনি উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি দিয়ে কয়েকজনের কাছে ফোন দিলে তাদের একজনের বাড়ি মাগুরা, এক ব্যক্তি তাদের গ্রামের এবং অপরজন শৈলকুপার হাজামপাড়া গ্রামের বলে জানান। এরপর ভুক্তভোগী মোবাইলটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে জমা দেন বলে জানান।
ঐ গ্রামের আরেক বাসিন্দা জানান, তিনি একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। থাকতেন কর্মস্থলে। বেশ কিছুদিন আগে তার স্ত্রী তাকে জানান- প্রায়ই গভীর রাতে ঘরের পাশে মানুষের উপস্থিতি টের পাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত এ ঘটনায় স্ত্রীর নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন। এ চক্রটি ধরার জন্য তারা গ্রামে পাহারার ব্যবস্থা করেন। তারা জনাতে পেরেছেন উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি প্রতিদিন রাত ২টার পরে সচল হয়। এছাড়া ধারণকৃত ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে।
সাপখোলা গ্রামের ইউপি সদস্য আবু তাহের টিটো জানান, ঈদের দিন রাতে ঐ গ্রামের এক বাসিন্দার বাড়িতে গভীর রাতে কে বা কারা ঘুমন্ত অবস্থায় তার স্ত্রীর ছবি ধারণ করতে থাকেন। একের পর এক ফ্লাশ জ্বলে উঠলে তিনি টের পেয়ে চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করেন। তবে মোবাইল ফেলে পালিয়ে যান তারা। উদ্ধারকৃত মোবাইলে ঐ গ্রামের নারী-পুরুষদের ঘুমন্ত অবস্থার আপত্তিকর দেড় শতাধিক ভিডিও ও ছবি রয়েছে। ঘটনাটি তিনি শৈলকুপা থানাকে জানিয়েছেন।
শৈলকুপা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, শৈলকুপার ১২নং নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের সাপখোলা গ্রাম থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ঐ গ্রামের ঘুমন্ত নারী-পুরুষদের দেড় শতাধিক আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি রয়েছে। অপরাধী চক্রটিকে ধরতে এরই মধ্যে সাইবার ক্রাইমসহ পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।