অপরাধ সংগঠিত করতে তারা ব্যবহার করছেন মাদক স্কোপোলামিন। পাশ্চাত্যের এ ভয়ংকর মাদক এখন খুলনার সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী চক্রের হাতে। এই চক্রটির টার্গেট হয়ে স্বেচ্ছায় নিজেদের মূল্যবান মালামালসহ টাকা পয়সা তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাদের মূল টার্গেট ইজিবাইক ছিনতাই ও যাত্রীদের মালামাল লুট।
বর্তমানে ছিনতাই ও লুটের নতুন এ পন্থায় খুলনার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এ পন্থায় একজন প্রতারক কিংবা ছিনতাইকারী ভুক্তভোগীকে চাইলেই কাবু করে নিজের ইশারায় নাচাতে পারেন। প্রতারক যে নির্দেশনাই দেবেন, তা-ই অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন সেই নিরীহ ভুক্তভোগী। বিষয়টি জাদু-টোনার মতোই কাজ করে।
.png)
খুলনা মহানগরীর শিববাড়ির মোড়, সাত রাস্তার মোড়, ময়লাপোতা, রয়্যাল মোড়, শামসুর রহমান রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় এ চক্রটি সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। কখনও পুলিশ, কখনও যাত্রী আবার কখনও চালক সেজে হাতিয়ে নিচ্ছেন ইজিবাইক, স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। সাম্প্রতিক সময়ে খুলনায় প্রায় ১০টি এমন ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী ইজিবাইক চালক মো. রাতুলের সঙ্গে বলেন, ১১ এপ্রিল সাতরাস্তা মোড় থেকে একজন যাত্রী ইজিবাইকে ওঠেন। তেঁতুলতলা মোড়ে আসতেই তিনি ইজিবাইকটি থামাতে বলেন। এ সময় পেছন থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকার আসলে ইজিবাইকে থাকা যাত্রীটি নেমে যান ও প্রাইভেটকারে থাকা এক ব্যক্তি আমার ইজিবাইকে ওঠেন। ওই যাত্রী আমাকে চেনা চেনা লাগছে বলে তার হাত দিয়ে আমার মুখে থাকা মাস্কটি টেনে খুলে দেন। এরপর থেকে আমি বেহুশ হয়ে পড়ি। তিনি আমাকে যেদিকে যেতে বলেছেন, আমি সেদিকেই গিয়েছি। একপর্যায়ে আমাকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে ইজিবাইক নিয়ে যান।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিএল কলেজের এক ছাত্রী আযম খান কমার্স কলেজে পরীক্ষা দিতে আসার সময় পথে তার সঙ্গে থাকা অন্য এক যাত্রী মুখের সামনে রুমাল ধরেন। এতে তিনি নিজের হুশ হারিয়ে তার কথা মতো স্বেচ্ছায় গলার চেইন ও কানের দুল খুলে দিয়ে দেন প্রতারকদের।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, অচেনা বা সন্দেহজনক ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো জিনিস খাওয়া বা পান করা যাবে না। রাস্তায় বা হোটেলে খাবার খাওয়ার সময় খাবার উন্মুক্ত রেখে কোথাও যাওয়া যাবে না। অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডসেক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অচেনা ব্যক্তি গ্লাভস পরা থাকলে কোনো মতেই হ্যান্ডসেক করবেন না। ভ্রমণের সময় অচেনা বা সন্দেহজনক ব্যক্তির ব্যবহার করা কোনো বস্তু নিজে হাত দিয়ে ধরা যাবে না। অচেনা কেউ ঠিকানা বা প্রেসক্রিপশন দেখে দিতে বললে এড়িয়ে চলতে হবে। কোনো ফুল বিক্রেতার ফুলের ঘ্রাণ নেয়া যাবে না। অচেনা জায়গায় ঘুরতে গেলে, কোনো রুমে থাকা অবস্থায় মশা নিধনকারী স্প্রে বা এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে ব্যবহার করা যাবে না।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সাউথ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ইজিবাইক চুরি, প্রতারণা করে মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়ার পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করা হয়েছে। এ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সাদা প্রাইভেটককারের মালিককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।