ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য, অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:৩৫, ৬ মে ২০২৩
লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য, অস্ত্র-গুলি উদ্ধার
গ্রেফতার আলমগীর। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ইমাম হত্যা মামলার ১৮ নম্বর আসামি আলমগীর ওরফে কদু আলমগীরকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মূল মিশন ছিল নোমান। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঁকা হয় বিভিন্ন ছক। প্রত্যেক গ্রুপে আটজন সদস্য করে ছয় ভাগে বিভক্ত হয় খুনিরা। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে তারা। এদিকে জোড়া খুনের কাজে ব্যবহৃত একটি দুনলা ও একটি এক নলা বন্দুকসহ পাঁচটি কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

রিমান্ডে থাকা দুই আসামির তথ্য অনুযায়ী এসব অস্ত্র-কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। 

শনিবার (৬ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ। 

Advertisement

এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকা থেকে গ্রেফতারের পর বুধবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দ্রগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক আনোয়ারুল কবীরের নিকট জবানবন্দি দেয় আলমগীর। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকা
ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

পুলিশ সুপার জানান, মামলার পাঁচ আসামি বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছে। এর মধ্যে মামলার ২ নম্বর আসামি মশিউর রহমান নিশান ৫ দিনের ও ১৪ নম্বর আসামি আজিজুল ইসলাম বাবলু ৩ দিন রিমান্ডে রয়েছে। বাবলুকে নিয়ে ৪ মে রাতে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে বের হয় পুলিশ। তার তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের অদূরে মাঠের পাশে কলাবাগান থেকে কলাপাতা মোড়ানো একটি দুনলা দেশিয় বন্দুক ও চার রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার আরো জানান, রিমান্ড চলাকালীন নানান কৌশলে নিশানের কাছ থেকে অস্ত্রের সন্ধান নেওয়া হয়। গত ৫মে রাতে আসামি নিশান ও রুবেল দেওয়ানকে নিয়ে অভিযানে বের হয় পুলিশ। নিশানের বাড়ির পাশে একটি লাকড়ি ঘর থেকে একটি একনলা বন্দুক ও একটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। আদালতে জবানবন্দিতে মামলার ৩ নম্বর আসামি দেওয়ান ফয়সাল ও ১৮ নম্বর আসামি আলমগীর জানায়, হত্যাকাণ্ডে অন্যান্য অস্ত্রের সঙ্গে দেশিয় কিছু বন্দুক ব্যবহার হয়েছে। অস্ত্রগুলো যিনি সবাইকে দিয়েছেন তাকে গ্রেফতারে আমরা চেষ্টা করছি। আটটি দলে ৩৫ থেকে ৪০ জন সন্ত্রাসী এ হত্যাকাণ্ডে কাজ করেছে। যিনি তাদের অস্ত্র দিয়েছে জবানবন্দিতে দেওয়ান ফয়সাল ও আলমগীর তার নাম বলেছে। এছাড়া, অনেকের কাছেই দেশিয় বিভিন্ন অস্ত্র ছিল।

পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, আমরা অস্ত্র উদ্ধারে নেমেছি। সবগুলো অস্ত্রই আমরা উদ্ধার করব। আমরা এক এক করে টার্গেট করেছি। এতে আমাদের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু গোপনীয় রাখা হয়েছে। জবানবন্দিতে আলমগীর বলেছে, তার হাতে পিস্তল ছিল, একজনের হাতে বন্দুক ছিল। তারা যাওয়ার আগেই নোমান ও রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে। সেহেতু তার অস্ত্র ব্যবহার হয়নি। ঘটনায় অনেক অস্ত্র ছিল। এক পার্টি না মারলে আরেক পার্টি মারত তাদের। যেহেতু এক পার্টি অস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে, সেহেতু অন্য পার্টির প্রয়োজন হয়নি। তবে সব অস্ত্রই ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!