ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শ্বশুর বাড়ির দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২০, ৭ মে ২০২৩
শ্বশুর বাড়ির দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
শ্বশুর বাড়ির দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শ্বশুর বাড়ির দ্বন্দ্বে জামাইসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। এছাড়াও অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়েনে বাঁশগাড়ি ও গজারিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ভৈরব পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, শনিবার (৬ মে) রাতে গজারিয়া গ্রামের কাসেম মিয়া দলবল নিয়ে শ্বশুর বাড়ি বাঁশগাড়ী গ্রামে গেলে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের জড়িয়ে পড়েন। এ সময় গজারিয়া গ্রামের মোস্তুফা মিয়ার ছেলে কাসেম, জালাল উদ্দিনের ছেলে মোরাদ ও অহিদ মিয়ার ছেলে আনোয়ার আহত হন। রাতেই এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। পরে কাসেমের অবস্থা অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Advertisement

এ ঘটনার জের ধরে রোববার (৭ মে) সকাল থেকে টানা ৪ ঘণ্টা বাঁশগাড়ী ও গজারিয়া গ্রামবাসীরা দা, বল্লব, টেটা, ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ জন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ভৈরব পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে বাঁশগাড়ী গ্রামের শিশু মেম্বারের বাড়ির শহিদ ও রফিক মিয়ার জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। একই বংশের রফিক ও শহিদ মিয়ার চাচা তোতা মিয়ার মেয়ের জামাই গজারিয়া এলাকার কাসেম তার শ্বশুর বাড়িতে দলবল নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে শিশু মেম্বারের ছেলে জনি বলেন, আমাদের বংশের রফিক মিয়া জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে বাঁশগাড়ী গ্রাম থেকে তার আত্মীয়দের খবর দিলে তারা এসে আমাদের গ্রামে ঝগড়া করেন। এ সময় তারা বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন এবং ভাংচুর করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাসহ নগদ ১২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান।

একই গ্রামের কৃষক ইসলাম উদ্দিন বলেন, জমি নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব হয়েছে। কিন্তু তারা আমার ফসলি জমির ধান পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্বে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

কাসেম মিয়ার পক্ষে তোফাজ্জল মিয়া বলেন, রাতে আমি আমার বন্ধু কাসেমের সঙ্গে ওই এলাকায় গেলে শিশু মেম্বারের লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কাসেম গুরুতর আহত হন। এ ঘটনা কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, গজারিয়া ইউনিয়নে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: ভৈরব
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!