ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জমি নিয়ে বিরোধে দোকানঘর ভাঙচুর-লুটপাট

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১১, ৮ মে ২০২৩
জমি নিয়ে বিরোধে দোকানঘর ভাঙচুর-লুটপাট
ভাঙচুর করা দোকানঘর

মধ্যরাত, গ্রামের সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। সেই রাতে হঠাৎ হইচই। মোটরসাইকেল ও অটোতে করে একদল মানুষ প্রবেশ করেছেন গ্রামে। তাদের হাতে রয়েছে লাঠিসোটাসহ নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র। পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়লো আতঙ্ক।

এরপরই শুরু হলো তাদের তাণ্ডব। দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের খেলায় মেতে উঠলেন তারা। গ্রামবাসী জানালার ফাঁক দেখলেন এমন দৃশ্য। তবে কেউ ঘর থেকে বের হননি ভয়ে। শুধু বের হয়েছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এমন ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চক-চোপিনগর মণ্ডলপাড়া গ্রামে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলা ও  দোকানঘর ভাঙচুরসহ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

সোমবার বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগের প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চক-চোপিনগর মণ্ডলপাড়া গ্রামের নূর ইসলাম ও একই গ্রামের শহিদুল ইসলাম সাজুর মধ্যে প্রায় আট মাস ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। মাস দেড়েক আগে এ বিষয়ে আদালতে মামলা করেন নূর ইসলাম। এরই জেরে এই হামলা ও লুটপাটের ঘটনা।

নূর ইসলামের স্ত্রী বিউটি বেগম, ছেলে বিটুল ইসলাম ও ভাই ফরিদুল ইসলাম বলেন, রোববার দিবাগত রাতে সাজু সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের ভাড়া করে তাদের টিন দিয়ে নির্মাণ করা দোকানঘরগুলোতে হামলা চালান। হামলাকারীরা ৬০-৭০ জন ছিলেন। তাদের সবার হাতেই ছিল দেশীয় ধারালো অস্ত্র। তারা মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোতে করে রাতে গ্রামে প্রবেশ করেন। এছাড়াও তাদের সঙ্গে একটি ট্রাকও ছিল। সেই ট্রাকে করে একটি দোকানঘর উঠিয়ে নিয়ে যান তারা। একইসঙ্গে আরও তিনটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন হামলাকারীরা।

বিউটি বেগম ও বিটুল অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের নেতৃত্ব দেন সাজু। তারা এসেই দোকানঘরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো শুরু করেন। পরে লাঠিসোটা দিয়ে সেগুলো ভেঙে ফেলেন। ওই সময় বাধা দিতে গেলে তাদেরকে ধারালো অস্ত্র ঠেঁকিয়ে ভয় দেখানো হয়। পরে ঘরের মধ্যে তাদেরকে আটকে রেখে লুটপাট করেন হামলাকারীরা। 

তারা আরও বলেন, দোকানে থাকা টেলিভিশন, একটি মুঠোফোন, বাড়ির পাশে থাকা সরকারি টিউবওয়েল, মুদি দোকানের মালামালসহ ক্যাশ বক্স থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছেন হামলাকারীরা।

রাতের আঁধারে সন্ত্রাসীদের এসব তাণ্ডব দূরে থেকে দেখলেও ভয়ে কাছে যেতে পারেননি নূর ইসলামের ভাই ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, হামলাকারীরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের দেখে পুরো উপজেলার বাসিন্দারা ভয়ে থাকেন। এ কারণে তিনি তাদের সামনে যাননি। তবে দূরে লুকিয়ে থেকে সবই দেখেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, নূর ইসলাম আমার জমি দখলে রেখেছেন। আমার জমির দখল চাই। তবে রাতে দোকানঘরে কোনো হামলার ঘটনায় আমি জড়িত নই। আমি এ হামলা চালায়নি।

জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ওই গ্রামে হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!