ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গুণে মানে সেরা সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম

ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১৪:৩১, ৯ মে ২০২৩
গুণে মানে সেরা সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম
সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে শুধু আম আর আম। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে শুধু আম আর আম। তবে গত বছরের তুলনায় আমের বাজারদর কিছুটা কম। গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাইসহ স্থানীয় নানাজাতের আমে জমে উঠেছে সাতক্ষীরার বাজার। আম পঞ্জিকা অনুযায়ী ৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত শুরু হওয়ার পর স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি সারাদেশে চলে যাচ্ছে মানে ও গুণে মানে সেরা সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম।

সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গোবিন্দভোগ আম ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ, গোলাপভোগ ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা মণ ও বোম্বাই আম ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।  

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে আমের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।  

Advertisement

ব্যবসায়ীরা বলেন, আবহাওয়া ও ভৌগোলিক কারণে সাতক্ষীরার আম অন্যান্য জেলার তুলনায় কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে পাকে। এজন্য সাতক্ষীরার আম বিদেশে রফতানি হওয়াসহ সারাদেশে বিপুল চাহিদা সৃষ্টি করে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এ বছর আম বাজারজাতকরণের তারিখ দুই সপ্তাহ পেছানো হয়। এতেই মূল ক্ষতিটা হয়েছে। কারণ রাজশাহী নওগা চাপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারে চলে এসেছে। এজন্য এ জেলার আম নিয়ে বাইরে এখন আর মাতামাতি নেই।

সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে শুধু আম আর আম। 

স্থানীয়রা আড়তদাররা জানান, প্রথম দিন থেকেই বাজারে আমের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আড়তগুলোতে তিলধারণের ঠাঁই নেই।  

সাতক্ষীরা শহরের আম চাষি বোরহানউদ্দিন বুলু বলেন, চলতি মৌসুমে প্রতিটি বাগানেই আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারে দাম কম। এমন দাম চলতে থাকলে লোকসান গুনতে হবে।

আব্দুল গনি নামের এক আম চাষি বলেন,  আমি গোবিন্দভোগ আম নিয়ে বাজারে এসেছি। সাইজ অনুযায়ী ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

আব্দুল জলিল নামের এক আমচাষি বলেন, সুলতানপুর বড় বাজারে জায়গা খুবই স্বল্প। গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই নিয়ে এসেছিলাম। যানজটের কারণে সকাল সকাল বাজার ধরতে পারি নি। এজন্য দাম পাইনি।

সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে শুধু আম আর আম।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করেছেন ১৩ হাজার ১০০ জন চাষি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় এক হাজার ২৩৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬৫৫ হেক্টর, তালায় ৭১৫ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৭০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৮৩৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ১৪৫ হেক্টর ও শ্যামনগরের ১৬০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০০ মেক্ট্রিক টন আম। এ মৌসুমে সাতক্ষীরা থেকে ২২৫ কোটি টাকার আম বিক্রির প্রত্যাশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

এদিকে, স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সাতক্ষীরার আম পঞ্জিকায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে জেলা প্রশাসন। সে অনুযায়ী ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্পাইসহ স্থানীয় জাতের আম বাজারজাত শুরু হয়েছে। এছাড়া ১০ মে হিমসাগর, ১৮ মে ল্যাংড়া ও ২৮ মে থেকে আম্রপালি আম বাজারজাত শুরু হবে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলায় এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আম পঞ্জিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ২২৫ কোটি টাকার আম বিক্রির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা থেকে আম রফতানির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: সাতক্ষীরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!