বাগেরহাটে প্রবাসীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, তিন ঘাতক গ্রেফতার
বাগেরহাটের চিতলমারীতে চাচাতো বোনের শ্লীলতাহানীর প্রতিবাদ করায় ছুরিকাঘাতে নিহত আব্দুল জব্বার শেখ হত্যা মামলার আসামি দেলোয়ার হোসেন ওরফে সবুজ মুন্সিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে যশোর জেলা সদরের শাখারীগাতি এলাকা থেকে র্যাব অভিযান চালিয়ে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত অপর দুই আসামি হলেন দ্বীন ইসলাম ওরফে আকাশ মুন্সি ও ছত্তার ওরফে ডাবলু মুন্সি। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার গোড়ানালুয়া গ্রামে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা দুবাই ফেরত প্রবাসী আব্দুল জব্বার শেখ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আসামিদের দুপুরে চিতলমারী থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব।
র্যাব জানায়, চিতলমারী উপজেলার গোড়ানালুয়া গ্রামের জালাল শেখের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মাদরাসা ছাত্রী আসমাকে রাস্তায় একা পেয়ে শ্লীলতাহানী করে অভিযুক্তরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় শুক্রবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে গোড়ানালুয়া গ্রামের ওই ছাত্রীর চাচাতো ভাই দুবাই ফেরত প্রবাসী আব্দুল জব্বার শেখ ও তার শ্যালক রাজিব শেখকে ছুরিকাঘাতে করে গুরুতর আহত করে দেলোয়ার হোসেন ওরফে সবুজ মুন্সি, দ্বীন ইসলাম ওরফে আকাশ মুন্সি ও ছত্তার ওরফে ডাবলু মুন্সি।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত দুইজনকে দ্রুত চিতলমারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রবাসী আব্দুল জব্বার শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের শ্যালক গুরুতর আহত রাজিব শেখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দুটি বাড়ির ৪টি বসতঘরসহ ধান ও খড়ের গাদা পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পর দিন শনিবার নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম শেখ বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে আসামিদের আটকে তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোরে যশোর জেলা সদরের শাখারীগাতি এলাকা থেকে পলাতক প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন ওরফে সবুজ মুন্সিসহ ৩ ঘাতককে গ্রেফতার করে র্যাব। র্যাব আসামিদের দুপুরে চিতলমারী থানায় হস্তান্তর করেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।