কাস্টমস শুল্ক আইন অনুযায়ী, আমদানি করা রিকন্ডিশন গাড়ি ৩০ দিনের মধ্যে ছাড়িয়ে নিতে না পারলে তা নিলামে উঠবে। এসব রিকন্ডিশন গাড়ির মডেল অনুয়ায়ী প্রতিটি গাড়ির দাম ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত। কিন্তু মোংলা বন্দরে ব্যবসায়ীদের আনা অনেক গাড়িই এক বছরেও ছাড় করাতে পারেনি। এমন অবস্থায় বন্দরের বিভিন্ন শেডে নিলামযোগ্য গাড়ির জট সৃষ্টি হয়েছে। এর সংখ্যা ৪২৪টি। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, সময়মত নিলাম অনুষ্ঠিত হলে এর সংখ্যা কমে যেত।
মোংলা কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন নিলামকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়। যার কারণে গত পাঁচ মাস মোংলা কাস্টমসের নিলাম কার্যক্রম বন্ধ আছে।
.png)
তিনি বলেন, গত ২০২১-২২ অর্থ বছরে বিভিন্ন নিলাম কার্যক্রম থেকে ৩২ কোটি ৮০ লাখ ৩২ হাজার ১৩৬ টাকা এবং ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৪ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৯ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে গত ডিসেম্বর-২০২২ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ মাসের ১০টি নিলাম করা যেতে পারলে এই রাজস্ব আরও বৃদ্ধি পেত।
নিলাম সংক্রান্তের জটিলতার অবসান হচ্ছে উল্লেখ করে মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান জানান, নিলাম সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় গত পাঁচ মাস নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। এজন্য মোংলা বন্দরে নিলামযোগ্য ৪২৪ গাড়ি নিলামে তোলা সম্ভব হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহে চট্রগ্রামের ‘কে এম করপোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের চুক্তি হচ্ছে। চুক্তি অনুয়ায়ী তারাই কাস্টমসের নিলামযোগ্য পণ্যের নিলামকারী প্রতিষ্ঠান হবে। এ মাসের শেষর দিকে ওই প্রতিষ্ঠান বন্দরের নিলামযোগ্য ৪২৪ গাড়িসহ পণ্যবোঝাই ১৫০ কন্টেইনার ও একটি ড্রেজার নিলামের জন্য দরপত্র আহবান করবে।
মোংলা কাস্টমস হাউস সূত্র জানায়, গত নভেম্বর মাসে কাস্টমসের নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান আল আমিন ট্রেডার্সের নিলাম মেয়াদ শেষ হয়। এরপর নতুন করে নিলামকারী (অকশনী) প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হলেও শেষ করা যায়নি। গত ২৩ জানুয়ারি নতুন নিলামকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিতে দরপত্র আহবান করা হলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কমমূল্য কমিশন দাখিল করে। এরপর গত ২৮ মার্চ নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য আবার দরপত্র দাখিল করা হয়। এসময় ছয়টি প্রতিষ্ঠানে দরপত্রে অংশ নেয়। কিন্তু ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানের রেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকায় তাদের নিয়ে পর্যালোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ট্রাফিক ম্যানেজার কুদরত আলী জানান, গত বছর মোংলা বন্দরে সাড়ে ২১ হাজার রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয়েছে। এ বছরের বুধবার (১০ মে) পর্যন্ত ১১ হাজার ৬০০ গাড়ি আসে। তবে এ মাসে আরো দুটি এবং আগামী মাসে আরো একটি গাড়িবাহী জাহাজ আসবে। আমদানি করা এসব গাড়ি বন্দরের ইয়ার্ড ও গোডাউনে রাখা এবং স্বাভাবিক নিয়মে ডেলিভারি দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো সমস্যা নেই বলেও জানান এ কর্মকর্তা।