আয়োজকরা বলছেন, অন্যান্য বারের মতো এবারও ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল ও কানাডা থেকে ভক্তরা মেলায় এসেছেন।
জনশ্রুতিতে রয়েছে, মেলা শুরুর আগে শম্ভুচান সেখানে শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করে প্রতিদিন পূজা করে ধ্যানে বসতেন। তার এই কর্মযজ্ঞ দেখে আশপাশের লোকজন মনে করতেন তিনি অলৌকিক শক্তির ধারক হয়েছেন। এরপর থেকেই আশপাশের সব ধর্মের নারী পুরুষ তাদের মনের বাসনা পূরণের আশায় তার কাছে আসতেন। সে সময় কেউ ফল, কেউ আগরবাতি, আবার কেউ টাকা-পয়সাও দান করতেন। অনেকের মনের আশা পূরণের খবর লোক মুখে জানাজানি হয়। এতে প্রতিবছর সিদ্ধাবাড়ির মেলায় সন্ন্যাসী ও ভক্তদের সমাগম বাড়তে থাকে। আগত ভক্তরা তাদের সামর্থ্য এবং মানত অনুযায়ী দান করেন।
.png)
সরেজমিন দেখা গেছে, মাসব্যাপী এই মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রকারের খাবার, গৃহস্থালি সামগ্রী, খেলনা ও নারীদের সাজ-সজ্জার সামগ্রী নিয়ে দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এছাড়া শিশুদের আনন্দের জন্য বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থাও রয়েছে। নিজেদের করা মানত পূরণ হওয়ায় অনেক মা-বাবাকে নিজেদের সন্তানের ওজন পরিমাপ করে সেই পরিমাণ ফল সেখানে দিচ্ছেন। কেউ কেউ টাকা-পয়সাও দান করছেন। ভক্তদের বিশ্বাস এখানে দান করলে মনের আশা পূরণ হয়।
চম্পা রানী বিশ্বাস নামে এক গৃহবধূ বলেন, আমার বিয়ে হয়েছে ২০ বছর আগে। বিয়ের পরই আমার স্বামী আমাকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছিলেন। এই মেলা অনেক জাঁকজমকপূর্ণ। তাই প্রতিবছর পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে সবার মঙ্গল কামনার জন্য আসি। এখান সবাই কোনো না কোনো আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আসেন।

রাফিজা আক্তার নামে আরেক গৃহবধূ বলেন, আগের বছর আমি আমার পরিবারের জন্য এখানে এসে একটা মানত করেছিলাম। সেটা পূরণ হওয়ায় আমি বাতাসা, সন্দেশ, আগরবাতি ও মোমবাতি নিয়ে এখানে এসেছি। এখন বাচ্চাদের নিয়ে মেলাটা ঘুরে দেখছি।
সন্ন্যাসী ভক্ত ও সেবায়েত শিকর চন্দ্র সূত্রধর বলেন, সিদ্ধাবাড়ির মেলায় আমি ৪০ বছর ধরে এসে সাধু সঙ্গ করি। সাধু গুরুর চরণধূলি নেয়ার জন্যই আসি। এখানে আসলে অনেক সাধুর সঙ্গ পাই। এতে আমার অনেক ভালো লাগে।
সিদ্ধাবাড়ি মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি আশীষ কুমার সাহা জানান, এবার ৪২১তম সিদ্ধাবাড়ির মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শম্ভুচান ছিলেন একজন সিদ্ধ পুরুষ। এখানে মানত করে অনেকেরই মনের আশা আকাঙ্ক্ষা বাসনা পূরণ হয়। এজন্য সব ধর্মের মানুষ এই মেলায় আসেন। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের ২০ তারিখ থেকে শুরু হয়ে জ্যৈষ্ঠ মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করেছে।