ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গুরোগী, সচেতন হওয়ার আহ্বান

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৯:৪১, ২ জুন ২০২৩
চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গুরোগী, সচেতন হওয়ার আহ্বান
ছবি সংগৃহীত

সাধারণত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে বেশি। কিন্তু এবার একটু আগেভাগেই ডেঙ্গুরোগী বাড়ছে। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ রোগের প্রকোপ বেড়েছে কয়েকগুণ। এ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, ভরা বর্ষায় সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে না। বর্ষা শেষ হওয়ার পর পরই এর প্রকোপ বাড়তে থাকে। জুলাই থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু এ বছর শুরু থেকেই ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এ প্রকোপ অব্যাহত থাকলে সামনের মাসগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে যে পরিমাণ ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছে তা গতবছরের এ সময়ের তুলনায় বেশি। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৮২ জন। তাদের মধ্যে ৯৩ জন পুরুষ, ৩৫ জন নারী ও ৫৪ জন শিশু। এছাড়া মারা গেছেন তিনজন।

Advertisement

পাঁচ মাসে শনাক্ত হওয়া ১৮২ জনের মধ্যে জানুয়ারি মাসেই শনাক্ত হন ৭৭ জন। পরবর্তী তিন মাস ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলে কমে আসে শনাক্তের হার। এ মাসগুলোতে যথাক্রমে ২২, ১২ ও ১৮ জন শনাক্ত হন। তবে মে মাসে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে শনাক্তের হার। এ মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ৫৩ জনের। পাঁচ মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন তিনজন। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই মারা যান তারা।

গত পাঁচ মাসে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার চেয়ে নগরে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেশি। পাঁচ মাসে শনাক্ত ১৮২ জনের মধ্যে নগরেই রয়েছেন ১১৯ জন। বাকি ৬৩ জন বিভিন্ন উপজেলার। উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ৩০ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন সীতাকুণ্ডে। এছাড়া সাতকানিয়ায় পাঁচজন, বাঁশখালীতে চারজন, আনোয়ারায় চারজন, কর্ণফুলীতে তিনজন, রাউজানে তিনজন, মীরসরাইয়ে দুইজন, সন্দ্বীপে দুইজন, রাঙ্গুনিয়ায় দুইজন, হাটহাজারীতে দুইজন, পটিয়ায় দুইজন, লোহাগাড়ায় দুইজন, চন্দনাইশে একজন ও বোয়ালখালীতে একজন শনাক্ত হয়েছেন। তবে ফটিকছড়ি উপজেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুরোগী পাওয়া যায়নি।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, ২০২১ সালে প্রথম ছয় মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুরোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল একেবারে শূন্য। পরবর্তী ছয় মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭১ জনে। পরের বছর ২০২২ সালে প্রথম ছয় মাসে শনাক্ত হন মাত্র ৩৬ জন। আর শেষ ছয় মাসে তা অনেকগুণ বেড়ে দাঁড়ায় চার হাজার ৪৪৫ জনে। অর্থাৎ ঐ বছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্ত হয় চার হাজার ৪০৯ জনের।

শনাক্তের মতো একই চিত্র ছিল মৃত্যুতেও। ২০২১ ও ২০২২ সালে প্রথম ছয় মাসে মৃত্যু না থাকলেও পরের মাসগুলোতে বেড়ে যায় মৃত্যুর হার। ২০২১ সালে জুলাই থেকে ডিসেম্বরে মারা যান পাঁচজন ও ২০২২ সালে একই সময়ে মারা যান ৪১ জন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। গত বছর এ সময় তেমন আক্রান্ত ছিল না। কিন্তু এ বছর ১৬৭ জন আক্রান্ত পাওয়া গেছে। জনসংখ্যার তুলনায় এ সংখ্যা তেমন বেশি না হলেও গত বছরের এ সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতন হওয়া জরুরি। ডেঙ্গু জ্বর হলে খাবারের প্রতিও বিশেষভাবে মনযোগী হতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে আরো যত্নবান হওয়া জরুরি। যেকোনো সময় ঘুমাতে গেলে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। আর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুরোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া নগরের হাসপাতালগুলোতেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান বলেন, এরইমধ্যে এখানে বেশ কিছু ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আমরা প্রস্তুত আছি। রোগী বাড়লে মেডিসিন ওয়ার্ডে তিনটি পৃথক ডেঙ্গু কর্নার করা হবে। শিশুদের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হবে। বলা যায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!