স্থানীয়রা বলছেন, এর স্বাদ মধুপুরের আনারসের চেয়ে অনেক বেশি সুস্বাদু ও রসালো। অন্যদিকে এ অঞ্চলের মাটি আনারস চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আর পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষিতে নতুন অর্থকরি ফসল হিসেবে আনারসের খ্যাতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
আনারস চাষি পিটার সাংমা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ঝিনাইগাতী এসে তিনি শ্বশুরের ১৮ বিঘা জমিতে প্রায় সোয়া লাখ আনারসের গাছ লাগান। এর মধ্যে এক লাখ ১০ হাজার গাছে আনারসের ফলন হয়। পরে এসব আনারস মধুপুরের এক ব্যবসায়ীর কাছে ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। এছাড়া বাগানে রয়েছে আরো প্রায় তিন লাখ টাকার আনারস।
.png)
তিনি আরো জানান, বাগানে বন্যহাতির তাণ্ডবে প্রায় ২০ হাজার পিস আনারসের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য আড়াই লাখ টাকারও বেশী।
স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরেন মারমা বলেন, প্রথম অবস্থায় স্থানীয়রা পিটারের বাগান দেখে সন্দিহান ছিলেন। পরবর্তীতে ফলন ভালো দেখে গ্রামের মানুষের মনে আশার আলো দেখা যায়। শুধু তাই নয় তাকে দেখে আনারস চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই।
তিনি আরো বলেন, পিটারের বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন মানুষ। আবার অনেকেই আনারসের স্বাদ নিচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক আব্বাস মিয়া, রতন শেখ ও আরজ আলী বলেন, পিটারের বাগানের আনারস মধুপুরের আনারসের চেয়ে অনেক বেশি সুস্বাদু ও রসালো। আগামীতে আমরাও আনারস চাষ করবো।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার বলেন, পাহাড়ি মাটি মূলত এসিডিক। আর এ মাটি আনারস চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উচ্চমূল্যের এ ফল চাষ করে পাহাড়ের অনাবাদি জমি যেমন চাষের আওতায় আসবে, তেমনি পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষিতে নতুন অর্থকরি ফসল হিসেবে আনারসের খ্যাতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।