সংসারের হাল ধরার আশায় বুকে আগলে রেখেছিল যে ছেলেকে, আজ সেই ছেলে ফিরেও তাকায় না বাবার দিকে। নিদারুণ অসহায়ত্বের মাঝে কাটছে দিন। সামান্য পরিমাণ মটর ভাজা, ছোলা কিংবা অন্যকিছু বাউকে (বাঁশের তৈরি এক প্রকার লাঠি) কাঁধে নিয়ে বের হন। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা তার ক্রেতা। হাতে ডুগডুগি বাজিয়ে শব্দ দিলেই ছুটে আসে ছোট্ট বাচ্চারা। কেউ প্লাস্টিকের বোতল, কেউবা লোহা নিয়ে তার কাছে ঐ সব কিনতে আসে।
গ্রামে গ্রামে ঘুরে ফিরে সামান্য বোতল, লোহা সংগ্রহ করে দিনশেষে মহাজনের নিকট বিক্রি করেন কাদির। মহাজনেও সময় মত টাকা দেয় না। অধিকাংশ সময় শূন্য হাতেই ফিরতে হয় বাড়িতে। যেদিন খালি হাতে বাড়িতে ফেরেন ঐদিন আর চুলায় পাতিল বসে না। অনাহারে, অর্ধাহারে নিদারুণ কষ্টে কাটছে কাদিরের জীবন।
.png)
এই বৃদ্ধ বয়সে যেখানে মানুষ গৃহে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকার কথা, সেখানে কুঁজো হয়ে বাউকে মালামাল নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরেন। পেটে আহার নেই, ক্ষুধার তাড়নায় ছটফট করেন তিনি। কারো দয়ায় হয়তো জুটে একটা বিস্কুট আর চা, তাতে দিন চলে যায় তার। সারাদিন কষ্ট করে বাড়িতে ফিরে নিজে রান্না করে যাবতীয় কাজ করতে হয় তার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাদির বলেন, হারাদিন (সারাদিন) গেরামে গেরামে (গ্রামে গ্রামে) টুহাইয়া (কুড়িয়ে) লোহা কাঁধে বাউকে বহন করে মহাজনের নিকট বেইচ্চা (বিক্রি) যা পাই হেইডা দিয়ে নিজের ওষুধ ও খাবার কিনে শেষ হয়ে যায়। অসুস্থ শরীর নিয়ে বাউক নিয়ে বের হয়েছি। পেটের খাবার আর ওষুধ কিনতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমার বয়স ৮০। কিন্তু ভোটার আইডিতে বয়স কম থাকায় ভাতা মিলছে না। একটা বয়স্ক ভাতা যদি পাইতাম তাহলে শেষ বয়সে ওষুধ আর দু’বেলা ভাত খেয়ে মরতে পারতাম। নিয়তি আমাকে কষ্টই দিলেন, সুখের ছোঁয়া আর দিলেন না।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এহসানুল হক জানান, আব্দুল কাদেরের বয়স কম থাকায় বয়স্ক ভাতা দেওয়া সম্ভব হয়নি।