পর্যটকে মুখরিত খাগড়াছড়ি
ঈদে পরিবার পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে বেড়ান অনেকেই। ভ্রমণের জন্য খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলো বরাবরই প্রিয়। এবার ঈদেও পর্যটকে মুখরিত খাগড়াছড়ি।
জেলার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা জানান, ঈদের প্রথম দিন কম হলেও দ্বিতীয় দিনে পর্যটক সমাগম বেড়েছে। ঈদের প্রথম দিন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজারের মতো পর্যটক এখনে ভ্রমণ করেছেন।
শনিবার বিকেলে খাগড়াছড়ির প্রধান পর্যটন কেন্দ্র দৃষ্টিনন্দন আলুটিলায় গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটিতে পরিবার পরিজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তারা। পর্যটকদের সমাগমে ভরপুর হয়ে ওঠে নান্দনিক সৌন্দর্যের আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র আর পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। বর্ষায় মেঘের ভেলা আর সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ তারা।
.png)

ঢাকা থেকে সপরিবারে বেড়াবে আসা ইয়াছিন আরফাত বলেন, আমরা সাজেক ঘুরে খাগড়াছড়ি আসলাম। রিছাং ঝর্ণা এবং আলুটিলা ঘুরে দেখেছি। সবুজ পাহাড়ের উপরে দাঁড়িয়ে বর্ষায় মেঘের ছুটে চলা দেখে মুগ্ধ হয়েছি।
মিরপুর থেকে আসা আফরোজা মিম বলেন, অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছি খাগড়াছড়ি ভ্রমণে আসব। চারদিক সবুজে ঘেরা এমন সৌন্দর্য দেখতে হলে বর্ষাকালেই খাগড়াছড়িতে ভ্রমণে আসা উচিত। এবার ঈদের ছুটিটা বেশ ভালোই কাটল। আলুটির রহস্যময় সুড়ঙ্গে ঢুকে খুবই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পেয়েছি।

জেলা হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া বলেন, এবার হোটেলের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। পর্যটক আকর্ষণে হোটেলের প্রতিটি কক্ষে ২০ শতাংশ করে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ খাগড়াছড়ি ইউনিটের ওসি নাসির উদ্দিন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় নিরাপত্তা দিচ্ছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান জানান, ঈদের আগে থেকেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পর্যটন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।