ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
তদন্ত প্রতিবেদন

ইঞ্জিনরুমের গ্যাস থেকেই তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২৮, ৭ জুলাই ২০২৩
ইঞ্জিনরুমের গ্যাস থেকেই তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ
ক্ষতিগ্রস্ত তেলবাহী জাহাজ সাগর নন্দিনি-২ - ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে তেলবাহী জাহাজ সাগর নন্দিনি-২ এর ইঞ্জিন রুমে জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রতিবেদন দিয়েছে জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত টিম। জেলা প্রশাসকের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন।

শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, জাহাজের ইঞ্জিনরুমে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে দগ্ধ শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতামত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথম দফায় তেল অপসারণের জন্য ইঞ্জিন রুমের জেনারেটর চালু করার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি নিয়ে আসা এবং কয়েক দিন নোঙর করে রাখার সময় গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ফিটনেসসহ অন্যান্য কাগজপত্রও সঠিক পাওয়া গেছে। বিস্তারিত জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

Advertisement

গত ২৫ জুন তেলবাহী সাগর নন্দিনি-২ জাহাজটি চট্টগ্রাম থেকে এসে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তেলের ডিপো-সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করে। জাহাজটিতে প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল (পেট্রল ও ডিজেল) ছিল। এটি পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপোয় তেল খালাস করার অপেক্ষায় ছিল। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটিতে ডিপো বন্ধ থাকায় তেল খালাস করা যায়নি।

শনিবার (১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নন্দিনি-২ এর ইঞ্জিনরুমে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে চারজনের মৃত্যু হয় এবং চারজন দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের পর গত রোববার নন্দিনি-২ থেকে ওটি মৃদুলা জাহাজে তেল অপসারণ করা হয়। এরপর সোমবার নন্দিনি-২ থেকে সাগর নন্দিনি-৪ জাহাজে তেল অপসারণের কাজ শুরু হয়। এ সময় নন্দিনি-২ জাহাজে আবার বিস্ফোরণ ঘটে। আহত হন ১০ পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন।

দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণের আগে নন্দিনি-২ জাহাজে তিন লাখ ৮৬ হাজার ২৪৯ লিটার পেট্রোল এবং ২৮ হাজার ৪৫৬ লিটার ডিজেল ছিল বলে দাবি পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষের। বিস্ফোরণের পর সারারাত আগুন জ্বলার কারণে অনেক তেল পুড়ে গেছে। বর্তমানে কী পরিমাণ তেল এখন রয়েছে, তা জানাতে পারেনি পদ্মা অয়েল ও সাগর নন্দিনি জাহাজ কর্তৃপক্ষ। পানি মিশ্রিত তেল ব্যবহার উপযোগী আছে কিনা, তা জানার জন্য ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে।

পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, কয়েকটি জাহাজে তেল অপসারণ করা হয়েছে। নন্দিনি-২ জাহাজে কী পরিমাণ তেল এখনো আছে, তা বলা যাচ্ছে না। পানি মিশ্রিত তেল পরীক্ষা করে জানা যাবে। এ বিষয়ে উদ্ধার কমিটি কাজ করছে।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক ফিরোজ কুতুবী জানান, জাহাজে থাকা অবশিষ্ট তেল অপসারণে ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নির্দেশনা ছাড়া তা এখনই অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে পানি উঠে যাতে ডুবে না যায়, সে বিষয়ে তৎপরতা অব্যাহত আছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে পানি ও ফোম মিশ্রিত তেল অপসারণের জন্য আট সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এই কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুন শিবলী জানান, তেল মিশ্রিত পানি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জাহাজটি যাতে ডুবে না যায়, সেজন্য ড্রেজার দিয়ে পেছনের অংশ থেকে পানি অপসারণ করা হচ্ছে। তবে তেলের চেম্বারগুলোর ওপরের অংশে ফাটল থাকলেও নিচের অংশ অক্ষত রয়েছে।

নন্দিনি-২ এর পাশে থাকা তেলবোঝাই নন্দিনি-৪ জাহাজটিও ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছেন মামুন শিবলী। তিনি বলেন, নন্দিনি-৪ জাহাজে থাকা তেল অপসারণের জন্য নন্দিনি-১ নামে একটি জাহাজ আনা হয়েছে। নন্দিনি-৪ এর সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে বিস্ফোরক দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে এবং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পানি ছিটাচ্ছে।

এছাড়া ঘটনার সারারাত আগুন জ্বলার পর কতটুকু তেল রয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। সুগন্ধা নদীতে দুর্ঘটনাকবলিত সাগর নন্দিনি-২ থেকে সোমবার সাগর নন্দিনি-৪ জাহাজে জ্বালানি সরিয়ে নেয়ার সময় দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!