রোববার বিকেলে পাবনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম শামীম আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলা আতাইকুলা থানার শ্রীকোল গ্রামের মো. মোতাহার হোসেন, মো. সাইদুল ইসলাম, আলাই, আক্কাছ আলী ফকির, শাহিন, রমজান আলী প্রামানিক, মো. সাইফুল ইসলাম এবং আতাউর রহমান। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. সাইদুল ইসলাম এবং মো. সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
জানা যায়, পাবনার আতাইকুলা থানার শ্রীকোল গ্রামের আবুল কালাম তার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য দণ্ডপ্রাপ্তদের সঙ্গে অলিখিত চুক্তিবদ্ধ হন। এ জন্য দণ্ডপ্রাপ্তরা এক লাখ টাকা দাবি করেন। আবুল কালাম ৪০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। বাকি ৬০ হাজার টাকা জমি উদ্ধারের পর দেওয়া হবে বলে জানান। এতে দণ্ডপ্রাপ্তরা ক্ষুব্ধ হন। কালামকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। ২০১৬ সালের ২৪ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দণ্ডপ্রাপ্তরা আবুল কালামকে হত্যার জন্য শ্রীকোল পশ্চিমপাড়ায় কৌশলে ডেকে নিয়ে আসেন। সেখানে এক কোপে আবুল কালামের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন তারা।
.png)
এ ঘটনায় আবুল কালামের ছেলে সুরুজ আলী বাদী হয়ে নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে রোববার পাবনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বেগম শামীম আহমেদ আটজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে খালাস প্রদান করেন। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ খান রতন এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহজাহান আলী খান।
এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ খান রতন।